ফায়ারওয়াল এনাবল ডিজএবল
আহসান আল মাসুম
ফায়ারওয়াল এনাবল বা ডিজএবল করার জন্য প্রথমেই ওপেন করুন কন্ট্রোল প্যানেল, তারপর ডাবল ক্লিক করুন নেটওর্য়াক কানেকশনসে। এবার নতুন যে বক্সটি আসবে সেটির মধ্য থেকে কানেকশনের ওপর রাইট ক্লিক করুন এবং ক্লিক করুন অ্যাডভান্স ট্যাবের ওপর। এবার আপনার ইচ্ছেমতো এনাবল বা ডিজএবল করার জন্য বক্সটি চেক বা আনচেক করুন।
Thursday, 1 October 2009
স্বামীকে বাঁচাতে ৭তলা থেকে লাফ
দক্ষিণ চীনের একটি শহরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বৈদ্যুতিক তার চুরির মামলা হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়ি ঘেরাও করে। লোকটি যাতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা না করে সে জন্য পুলিশ বহুতল ওই ভবনের চারপাশে মোটা তোষক বিছিয়ে দেয়। পুলিশ সন্দেহভাজন ওই চোরের সাত তলার ফ্ল্যাটে উঠার প্রস্তুতি নিতেই ওই ফ্ল্যাট থেকে তার স্ত্রী লাফিয়ে পড়েন তোষকের উপর। আকস্মিক এ ঘটনায় হতভম্ব পুলিশের দলটি মহিলাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে ওই ফাঁকে পালিয়ে যান তার স্বামী। সাত তলা থেকে লাফিয়ে পড়লেও মহিলা তেমন গুরুতর আহত হননি। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। ইন্টারনেট।
ভারতের তামিলনাড়ুর একটি মন্দিরে নারীদের চাবুক মারার দৃশ্য

সম্প্রতি মহিলাদের চাবুক মারার ঘটনা ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে। আর একজন দু’জন নয়, মাত্র দু’দিনের মধ্যে চাবুক মারা হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি নারীকে। তাদের মধ্যে স্কুলের ছাত্রী ও বেশ কিছু কিশোরীও রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর নামকাল জেলার বাভিথ্রাম ভেল্লালপট্টি এলাকার শ্রীআচাপান মন্দিরে।
প্রাচীন এই হিন্দু মন্দিরটিতে প্রতি বছর বিজয়া দশমীর দিনে মূলত নারীদের নৃশংসভাবে চাবুক মারার প্রথাটি স্খায়ী এক ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর নিয়ম মোতাবেক ওই বছরও বিজয়ী দশমীর দিন অর্থাৎ ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর নারীদের চাবুক মারার এই ‘উৎসব’ পালিত হয়েছে। শক্তিশালী যুবক পুরোহিতরা ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে শান্তি ও মুক্তির প্রত্যাশী কিংবা অশুভ শক্তি ভর করা বলে চিহ্নিত নারীদের একের পর এক চাবুক মারতে থাকেন। পুরোহিতদের চাবুক দ্বারা ক্ষতবিক্ষত হলে কল্যাণ পাওয়া যাবে কিংবা অশুভ প্রেতাত্মা বিতাড়িত হবেথ এই হচ্ছে এলাকার হিন্দু পুরোহিত ও তাদের অনুসারীদের বিশ্বাস। প্রতি বছর এ জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ বছর দেখা যায়, মন্দিরের সামনে চাবুক মারার জন্য আধকিলোমিটার লম্বা সারিতে নারীদের জড়ো করা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর দেখা গেল এক নৃশংস দৃশ্য। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া কিশোরী ও তরুণীসহ পুরোহিতদের মোটা দড়ির সজোর চাবুক আছড়ে পড়ছে মহিলাদের শরীরে। আহত এই নারীরা মাঠের মধ্যে পড়ে কাতরাচ্ছেন। অনেকের শরীরের চামড়া ফেটে গিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। কেউ কাঁদছেন সশব্দে আর কেউ বা নীরবে অশ্রুপাত করছেন। অনেককেই চার-পাঁচবার করে চাপকানো হচ্ছে।
দ্বাদশ ক্লাসের ছাত্রী বণিতা চাবুক খেয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। কাঁদতে কাঁদতে সে সাংবাদিকদের জানায়, তাকে চাবুকের মার সহ্য করার জন্য লাইনে বসতে হয়েছে। কারণ তার বাবা-মা মনে করেন, লেখাপড়ায় তার মন নেই। আর এটা হয়েছে নাকি কোনো অশুভ আত্মার জন্য। বণিতা আরো বলে, আমার বাবা-মা জোর করে এখানে আসতে আমাকে বাধ্য করেছে। ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে আমার বìধুরা আমাকে সন্দেহের চোখে দেখবে। ভাববে, আমি ভূতপ্রেত দ্বারা আচ্ছন্ন। নারীদের এই চাবুক মারার ‘উৎসবে’ ১১-১২ বছরের ছাত্রীরাও রয়েছে। তাদেরও অশুভ শক্তি থেকে মুক্ত করার জন্য এখানে আনা হয়েছে। একজন নববধূকেও পুরোহিতদের চাবুকের প্রহারে অংশ নিতে এখানে নিয়ে আসা হয়। তার শ্বশুর-শাশুড়ি মনে করেন, নববধূর মধ্যে অশুভ শক্তি ভর করে আছে। স্খানীয় এক ব্যক্তি জানান, এইভাবে পুরোহিতদের চাবুক মারা সহ্য করতে পারলে মানসিক এবং শারীরিক সব অসুখ দূর হয় বলে তাদের বিশ্বাস।
এই জঘন্য প্রথা কি অপরাধ নয়? এ কথা জিজ্ঞেস করলে মন্দিরের পুরোহিত কে গুয়ানদান বলেন, বিষয়টি মোটেই সে রকম নয়। বিশ্বাসীরা এখানে নিজে থেকে হাজির হন বলেই আমরা চাবুক দ্বারা প্রহার করি। প্রায় হাজার বছর ধরে এই প্রথা চলছে। আমরা এই প্রথা তুলে দিতে পারি না।
২৮ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর দিন শুরু হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর এই চাবুক মারার ‘উৎসব’ শেষ হয়। এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ সমবেত হন। চাবুক মারার ‘সুবন্দোবস্তের জন্য’ পুলিশ ও প্রশাসন কর্তৃপক্ষ এখানে উপস্খিত থাকেন। পুলিশের উপস্খিতি অবশ্য এবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সরকার সমর্থকদের আচরণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে অস্খিরতা
আবু সালেহ আকন
সরকারি দল সমর্থকদের আচরণে অস্খির হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধের সাথে সরকার সমর্থকরা উদ্বেগজনকহারে জড়িয়ে পড়ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এতে ক্রমেই দেশের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতির অবনতি ঘটছে। এ অবস্খায় মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুষ্টের লালন ও শিষ্টের দমন করছে। সরকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
সূত্রাপুরে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ফেরার পথে গত সোমবার রাতে গুলিতে খুন হয়েছেন গৌতম সরকার নামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। সূত্রাপুর থানা পুলিশ বলেছে, পূজামণ্ডপের কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এই খুন ঘটেছে। তবে স্খানীয় সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনা ঘটেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে। এর সাথে সরকার সমর্থকরাই জড়িত বলেও স্খানীয় সূত্র জানায়।
এভাবে সারা দেশেই ঘটছে খুন-খারাবি, জমি দখল, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘটনার সাথেই সরকার সমর্থকরা জড়িত।
অনুসìধানে দেখা গেছে, সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে নারী নির্যাতন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী এই ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। নারীদের শ্লীলতাহানি করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, ওই অপকর্মের ভিডিও করে তা সিডি করে বাজারজাত পর্যন্ত করেছে তারা। পিরোজপুরে এরূপ বেশ কিছু সিডি উদ্ধার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্খার সদস্যরা। প্রেমের ফাঁদে ফেলে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আহসান কবির মামুন ওরফে টাইগার মামুনের নেতৃত্বে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চিত্র রয়েছে ওই সিডিতে। সম্প্রতি নাজিরপুর কলেজ শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম সেন্টুর নেতৃত্বে একই কলেজের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে উপজেলা বন বিভাগের নার্সারির মধ্যে ফেলে রাখে। এসব ঘটনায় মামলা হলেও হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত রোববার রাতে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে স্খানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১০ নেতাকর্মী। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতারা সালিস করে দিয়েছেন। ১০ জনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০০ বেত্রাঘাত শাস্তি হয়েছে। লোকলজ্জা ও সরকারি দলের ভয়ে ওই ছাত্রীর পরিবার কোনো মামলা দায়ের করেনি। পুলিশও এ বিষয়ে মামলা নিতে উদ্যোগী হয়নি।
গত রোববার রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া তুষখালী বাজার পূজামণ্ডপে তরুণীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজমল হক হেলাল। সন্ত্রাসীরা তখন তার ওপর হামলা চালায়। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি আহত হন। হেলাল জানান, ঘটনাস্খলে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা সন্ত্রাসীদের আটক করতে অপারগতা প্রকাশ করে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর এক তরুণী রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখানে সেন্টু, মিজান ও পলাশ নামের তিন সন্ত্রাসী তরুণীকে জোর করে নৌকায় তুলে পালাক্রমে নির্যাতন চালায়। পরে তাকে অজ্ঞান অবস্খায় বাঁধের ওপর ফেলে যায় সন্ত্রাসীরা। স্খানীয় মাতব্বররা এ ঘটনার বিচার করে দেয়ার কথা বলে থানায় মামলা না করার নির্দেশ দেয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিচার বসানোর কথা বলে স্খানীয় কিলার সালাহউদ্দিন ওই কিশোরীকে বাসা থেকে নিয়ে যায়। সেখানে আবারো তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চলে। স্খানীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্যাতনকারীরা স্খানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মী। ওই কিশোরী থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তাকে থানা থেকে বের করে দেয়।
কামরাঙ্গীরচরের অপর ঘটনাটি ঘটেছে রসুলপুরের দেড় নং গলি এলাকায়। স্খানীয় সূত্র জানায়, স্খানীয় আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়দানকারী মিন্টু মোল্লা ওই এলাকার এক তরুণীকে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা কালা মনসুর বিষয়টি ‘সালিস’ করে দেয়ার কথা বলে। ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে তিন নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে ইউসুফ, মনসুর, কালা বাবুল, কালা মজিবর ও কানা কাদির উপস্খিত ছিল। সালিস বৈঠকে মিন্টু মোল্লার বিচার না করে উল্টো স্খানীয় যুবক মঈনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আওয়ামী লীগেরই কিছু নেতা-নেত্রী এর প্রতিবাদ করলে সালিসদাররা তাদের বৈঠক থেকে বের করে দেয়।
মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, সম্প্রতি সরকার সমর্থকরা যা করছে তা নি:সন্দেহে উদ্বেগের। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান শুভ্র নয়া দিগন্তকে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না। গণতন্ত্রের লক্ষ্য হচ্ছে মানবাধিকার রক্ষা করা। বর্তমান সরকারের ছাত্র ও যুবলীগ ভয়াবহ পরিস্খিতি সৃষ্টি করে রেখেছে।
আদিলুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে যেতে পারে না। তারা দুষ্টের লালন ও শিষ্টের দমন করছে। তিনি বলেন, এই পরিস্খিতিতে গণপ্রতিরোধ ছাড়া মুক্তির পথ নেই। সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। দু-একটি পত্রপত্রিকা ও মানবাধিকার সংগঠন এই পরিস্খিতির বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে তারাও কোণঠাসা।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান নয়া দিগন্তকে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। ছাত্রলীগ-যুবলীগ যা করছে তা সরকারের নামের ওপর কলঙ্ক ফেলছে। তিনি বলেন, নিজ সুনাম রক্ষা করতে হলে সরকারের উচিত ওসব ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা। তিনি এসব ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের এক্ষুনি গ্রেফতার করা প্রয়োজন।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিভিন্ন ঘটনায় তারাও উদ্বিগ্ন। এভাবে চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতির মারাত্মক অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)