Thursday, 1 October 2009

ব্যায়ামের উপকারিতা

গ্রন্থির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এগুলোকে সচল রাখতে ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের স্নায়ুগুলো মেরুদণ্ডে থাকায় মানুষের যৌবন ও জীবনীশক্তি মেরুদণ্ডের সচল ও এর কর্মক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। মেরুদণ্ডে রক্ত চলাচল ঠিকমতো হলে স্নায়ুগুলো সচল থাকে। মেরুদণ্ডে রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে স্নায়ুগুলো দুর্বল হয়ে যায়। শরীর জরাগ্রস্ত হয়। মেরুদণ্ডে রক্ত চলাচল ঠিক ও অধিক কর্মক্ষম রাখতে প্রয়োজন ব্যায়ামের। ফলপ্রসূ ব্যায়ামের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের স্নায়ুগুলোকে অধিক রক্তস্নাত করে এদের সজীবতা ও নবীনতা বৃদ্ধি করা যায়। ইন্টারনেট
ইংরেজিতে প্রশ্ন করায়...

ইংরেজিতে প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিককে তিরস্কার করলেন জার্মানির নতুন সরকারের সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফিন্স ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান গিদো ওয়েস্টারভেল। তিনি ওই সাংবাদিককে সতর্ক করে বলেন, এখন আমরা জার্মানিতে অবস্খান করছি। অ্যাঞ্জেলা মারকেলের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওয়েস্টারভেল। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি প্রথম সংবাদ সম্মেলনে উপস্খিত হলে বিবিসি’র সাংবাদিক জানতে চান, ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেবেন কি না। তিনি উত্তরে বলেন, এ সংবাদ সম্মেলনটি জার্মানিতে হচ্ছে। ওই সাংবাদিক তখন বলেন, ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে তিনি জার্মান ভাষায় উত্তর দেবেন কি না। এতেও তিনি সাংবাদিককে তিরস্কার করে বলেন, ব্রিটেনের লোকজন যেমন ইংরেজিতে প্রশ্ন আশা করে জার্মানিতেও লোকজন জার্মান ভাষায় প্রশ্ন আশা করে। এর পর ওই সাংবাদিক একজন দোভাষীর সাহায্যে তাকে প্রশ্ন করেন। রয়টার্স।
আমেরিকানদের বিশ্বাস আততায়ীর হাতে নিহত হবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা

ওবামা সরকারের সাম্প্রতিক স্বাস্খ্যনীতির প্রশ্নে সামাজিক নেটওয়ার্কিং সিস্টেম ফেইসবুকের উদ্যোগে চালানো এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকানের বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট ওবামা আতাতায়ীর হাতে নিহত হবেন। ১৫ দিনব্যাপী চালানো এ জরিপে প্রাপ্ত বয়স্ক ৩৭ লা ২১ হাজার ৮৯৩ জন লোক অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্খা গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্যটি জানিয়েছে।
ফেইসবুকের দেয়া প্রশ্নমালায় প্রশ্ন ছিল ‘ওবামার মৃত্যু কিভাবে হবে?’ উত্তরে ফেইসবুকের ৯৩.৫১ শতাংশ গ্রাহক বলেছেন গুপ্ত হত্যা। ৫.০৩ শতাংশ জানিয়েছেন স্বাভাবিক মৃত্য। আর বাকি ১.৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন অন্যান্য কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। একই সাথে গ্রাহকদের কাছে সাইটটির আরেকটি প্রশ্ন ছিল ‘কেন আততায়ীরা তাকে মারবেন?’ এ প্রশ্নের বিভিন্ন উত্তর এসেছে। কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক বলেছেন, আমেরিকা এখনো কৃষäাঙ্গদের পছন্দ করে না। তাই অধিকাংশের ভাবনাই আসতে পারে না একজন কৃষäাঙ্গ পুরো বিশ্ব চালাচ্ছেন।
একই উত্তর অনেকে আবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলেছেন ‘যুক্তরাষ্ট্র এখনো কৃষäাঙ্গ শাসনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়।’ আর কৃষäাঙ্গবিরোধী শ্বেত বর্ণবাদীরাই ওবামাকে হত্যা করবে বলে মত দেন ৫৬.০৫ শতাংশ লোক। আর উত্তর দাতাদের বিশ্বাস, ওবামার হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেবে ‘ক্ল্যান ক্লু ক্লেক্স’ নামক বর্ণবাদী সংগঠনটি। অতীতেও যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কৃষäাঙ্গ প্রেসিডেন্ট জর্জ আব্রাহাম, সমাজ বিপ্লবী মার্টিন লুথার কিংসহ অসংখ্য কৃষäাঙ্গ নেতাকে হত্যা করেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তিনজন প্রেসিডেন্টের মৃত্যুসংক্রান্ত জরিপের ১০ বছরের মাথায় তারা কোনো না কোনোভাবে আততায়ীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। কয়েকজনের ওপর একাধিকবার আততায়ীরা হামলা চালিয়েও হত্যা করতে সক্ষম হয়নি। এদের মধ্যে জর্জ বুশ একজন। আততায়ী হামলার ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এরই মধ্যে একাধিকবার হত্যার হুমকি শুনেছেন। কিন্তু মৃত্যু নিয়ে তিনি চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিকদের।
ধর্ষিতা ছাত্রীদের পরিবারের কান্নায় স্তব্ধ পিরোজপুর


খলিদ সাইফুল্লাহ পিরোজপুর থেকে ফিরে noyadigonta 30/09/09
‘আমার মেয়ের সর্বনাশ করে যারা বাজারে ভিডিও চিত্র ছেড়েছে আল্লাহই তাদের বিচার করবেন।’ এক অসহায় মায়ের এমন আর্তনাদে পিরোজপুরের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সরকারদলীয় এমপি’র বিশ্বস্ত সহচর, দলের দুর্ধর্ষ ক্যাডার এবং ছাত্রলীগ নেতা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কয়েকজন কিশোরীকে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ করে ভিডিও ছবি বানিয়ে বাজারে সিডি আকারে বিক্রির ঘটনায় পিরোজপুর শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে সংবাদটি প্রকাশের পর গোয়েন্দা পুলিশ সিডি বিক্রির দায়ে তিন ভিসিডি ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করলেও ঘটনার হোতা ও তার সহযোগীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। অবশ্য পিরোজপুরের এসপি গতকাল সìধ্যায় জানিয়েছেন, ঘটনার মূল হোতাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তাকে অবশ্যই আটক করা হবে। লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষিত মেয়েদের অভিভাবকরা থানায় কোনো মামলা না করলেও বিষয়টি পিরোজপুর শহরের অভিভাবক মহলে ভীতির সৃষ্টি করেছে।
অতিসম্প্রতি পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আহসান কবির ওরফে টাইগার মামুন শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীসহ কয়েকজনকে ফুসলিয়ে বিভিন্ন স্খানে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের দৃশ্য তার সহযোগী গাঁজা মুনির ভিডিওতে ধারণ করে। টাইগার মামুনের দলীয় প্রতিপক্ষ মুনিরের কাছ থেকে ওই ভিডিওচিত্রটি কব্জা করে তা সিডি আকারে বিভিন্ন ভিসিডি ও সিডি দোকানে সরবরাহ করে। গত কয়েক দিন ধরেই এ সিডি পিরোজপুর শহরে গোপনে দেদার বিক্রি হচ্ছিল। পুলিশ এর কোনো খোঁজই রাখেনি। স্খানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানলেও রাজনৈতিক ও ক্ষমতাসীন দলের কারণে চুপচাপই ছিলেন।
কিন্তু গত সোমবার একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর পিরোজপুরের গোয়েন্দা পুলিশ শহরের কয়েকটি ভিসিডি ও সিডি দোকানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। এদের মধ্যে গোপাল কৃষä মার্কেটের সৌখিন ভিডিও সেন্টারের মালিক সুমন তালুকদার, জেলা পরিষদ মাকের্টের মোল্লা টেলিকম ভিডিও সেন্টারের মালিক ফয়সাল গাজী ও কর্মচারী শাহিন হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দু’টি দোকান থেকেই কিশোরীদের ধর্ষণের ভিডিওচিত্র সংবলিত বেশ কিছু সিডি উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় ডিবি’র এসআই সুলতান আহমেদ ফকির বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে টাইগার মামুন ও গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আজীম গ্রেফতাকৃতদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন বলে জানালেও গতকাল বিকেল ৪টায় পিরোজপুর কোর্টে এসংক্রান্ত কোনো আবেদন পৌঁছেনি। গতকাল আদালতে গ্রেফতারকৃতদের জামিন প্রার্থনা করা হলেও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তা নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ দিকে এ ঘটনায় পিরোজপুর শহরের সর্বমহলে চরম ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। স্খানীয় এমপি’র খুব কাছের লোক টাইগার মামুনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও পারছে না কেউ। এমনকি বেশির ভাগ ধর্ষিতার বাবা-মাও ঘটনার পর মেয়েদের অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন। তারা সাংবাদিকদের সামনেও মুখ খুলতে নারাজ। এক কিশোরীর মা বলেন, এভাবে আমার মেয়ের জীবন যারা ধ্বংস করল এ দুনিয়ায় তাদের বিচার না পেলেও আল্লাহর কাছে তাদের বিচার দিলাম।’
পিরোজপুরের এসপি গতকাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে টাইগার মামুন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন। ঘটনার সব আলামত উদ্ধারে অধিকতর জোর দেয়ার কথাও জানান তিনি।
এ দিকে আমাদের পিরোজপুর সংবাদদাতা জানান, সম্প্রতি নাজিরপুর কলেজ শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম সেন্টুর নেতৃত্বে একই কলেজের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে উপজেলা বনবিভাগের নার্সারির মধ্যে ফেলে রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না।
বঙ্গবìধু মেডিক্যাল ভার্সিটির ১১ অধ্যাপক চাকরিচ্যুত

নিজস্ব প্রতিবেদক noya digonto 30/09/09

অনুষদের নির্বাচিত ডিনসহ বঙ্গবìধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন সিনিয়র প্রফেসর ও একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরের মধ্যে তাদের আর চাকরি থাকবে না বলে কর্তৃপক্ষ গতকাল এক নোটিশে জানিয়ে দিয়েছে। চাকরিচ্যুতদের সবাই দেশের একমাত্র মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তারা বিগত বিএনপি সরকারের আমলে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেলেও আকস্মিকভাবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুতির নোটিশ ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। আগে এসব প্রফেসর সরকারি চাকরি করতেন। সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে তারা পিজি হাসপাতালে নিয়োগ লাভ করেছিলেন। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্কট পূরণে বিগত সরকারের আমলে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বিএনপিপন্থী হওয়ার অভিযোগে ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের কথা উল্লেখ করে এই চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেয়া হয়েছে। যাদের চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেয়া হয়েছে তারা হলেন, ডেন্টাল অনুষদের ডিন ও ওরাল ও ম্যাক্সিলোফিশিয়াল সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মতিউর রহমান মোল্লা, এন্ডোক্রাইনোলজির অধ্যাপক নাসিম আক্তার চৌধুরী, নেফ্রোলজির অধ্যাপক জাহাঙ্গীর কবির, গাইনি বিভাগের অধ্যাপক সায়েবা আক্তার, ফিজিওলজির চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক নুরজাহান বেগম, ফার্মাকোলজির অধ্যাপক নার্গিস আক্তার, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের অধ্যাপক এস এ খান, মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক মো: আবুল কাশেম খান, কার্ডিওলজির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রেডিওলজির অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, প্লাস্টিক সার্জারির সহযোগী অধ্যাপক শরীফ হাসান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গবìধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৮ সালের ১ নম্বর আইন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত ও প্রণীতব্য সব সংবিধি, অধ্যাদেশ, প্রবিধান ও নিয়ম অনুযায়ীই তাদের চাকরি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এত দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী (অবসর) আইন এর ৯ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, উল্লিখিত চিকিৎসকদের নিয়োগদান আইনানুগ হয়নি বিধায় তা বাতিলযোগ্য। সে অনুযায়ী আজ ৩০ সেপ্টেম্বর অপরাহ্ন থেকে তাদের নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার আবার কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্খায় নিয়মিত পদে চাকরি গ্রহণ নিষিদ্ধ। তবে নোটিশে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ গ্রহণে উল্লিখিত চিকিৎসকরা সম্মত আছেন কি না তা আগামী সাত দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, উল্লিখিত প্রফেসররা যার যার বিভাগে স্বনামধন্য। তাদের প্রায় সবাই বিগত জোট সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছেন বলে তাদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে যেনতেন প্রকারে চাকরিচ্যুতির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর ডেন্টাল ফ্যাকাল্টির ডিন ও চেয়ারম্যানকে একবার চাকরিচ্যুতির চেষ্টা করা হয়েছিল । কিন্তু নানা কারণে পরে তা বাতিল করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উল্লিখিত চিকিৎসকদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ইন্টারভিউর মাধ্যমে নেয়া হয়। সরকারি চাকরি থেকে অবসরপত্র জমা দেয়ার শর্তে বিএসএমএমইউ তাদের নিয়োগ দেয়। এতে কোনো ভুল হলে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই দায়ী হতে পারে। অভিযুক্তরা কিছুতেই নন। যারা চাকরি নিয়েছেন তারা কর্তৃপক্ষের সব শর্ত মেনেই চাকরিতে যোগদান করেছেন। ভুল হয়ে থাকলে তা শোধরানোর দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এ জন্য চিকিৎসকদের চাকরিচ্যুতি করাটা কতটুকু আইনসম্মত হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সরকারি চাকরিতে অন্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগে বয়সসহ নানা শর্ত থাকলেও চিকিৎসা পেশায় নিযুক্তরা উচ্চতর শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতার কারণে এ ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। কেননা চিকিৎসা পেশায় উচ্চতর শিক্ষায় অনেক সময় লাগে এবং তা কষ্ট ও পরিশ্রমসাধ্য। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এই চাকরিচ্যুতি উচ্চতর স্বাস্খ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের এক পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এ দিকে বিএসএমএমইউ’র ১১ জন স্বনামধন্য চিকিৎসকের চাকরিচ্যুতির নোটিশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে বিএমএ নেতৃবৃন্দ বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অপচেষ্টাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন মানসিকতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এ দিকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ পাওয়া এন্ডোক্রাইনোলজির অধ্যাপক ডা. নাসিম আক্তার চৌধুরী গত রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, কী বলব কিছুই বুঝতে পারছি না। এত দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি করছি কেউ বলেনি আমার নিয়োগপত্রটি অবৈধ। আজ হঠাৎ করে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো শুনতে পেলাম আমাকে অপসারণ করা হবে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ইন্টারভিউ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শর্ত পূরণ করে চাকরি নিয়েছি। দু:খজনক ছাড়া এ মুহূর্তে আমি আর কিছু বলতে পারছি না।
ডেন্টাল অনুষদের ডিন ও ওরাল এবং ম্যাক্সিলোফিশিয়াল সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মতিউর রহমান মোল্লা জানান, বিএসএমএমইউতে একাডেমিকেলি শূন্যতা সৃষ্টির জন্য এক দিনের নোটিশে চাকরিচ্যুত করতে চাচ্ছে আমিসহ আরো অনেককে। তিনি বলেন, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই সরকারি চাকরি ছেড়ে এখানে যোগদান করেছিলাম। দলীয়করণের চরম নমুনা দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ নিজেদের নিয়োগবিধি ভুলে যে সরকারি আইনের কথা বলছে তা দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করবে।
বিরোধীদল সমর্থক কৃষকরা সার কেনা নিয়ে আতঙ্কে
রাজশাহীতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক noya digonto 30/09/09

সময়মতো প্রয়োজনীয় সার কিনতে পারবেন কি না এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন সার দেশের বিরোধীদল সমর্থক লাখ লাখ কৃষক। কারণ রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারদলীয় খুচরা সার বিক্রেতারা আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। এমন পরিস্খিতির সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফোকাস বাংলা নিউজ জানায়, দেশজুড়ে খুচরা সার বিক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দলীয়করণের জন্য কৃষকদের মাঝে হতাশা ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সরকারের নতুন নীতিমালায় সার বিতরণ সুষ্ঠুভাবে হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। যথাসময়ে কৃষকরা সার পাবেন না বলে তার আশঙ্কা করছেন। দীর্ঘদিন খুচরা বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে সরকারি দলের নেতাদের ইউনিয়নভিত্তিক খুচরা বিক্রয়প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের নিয়মনীতি অনুসরণ করে আবেদনের পরও বঞ্চিত হওয়ায় পুরনো ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এতে যথাসময়ে ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন নীতিমালায় আগের নিয়োগ পাওয়া পাঁচ হাজার ১১১ জন ডিলারের নিয়োগ বহাল থাকলেও তাদের কোনো বিক্রয়প্রতিনিধি থাকবে না। তাদের অধীনে আগে থাকা ১৫ হাজার ৩২৭ জন বিক্রয়প্রতিনিধির নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। বিক্রয়প্রতিনিধির পরিবর্তে স্খানীয়ভাবে বিশেষ আইডি কার্ডধারী খুচরা বিক্রেতা নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে নতুন নীতিমালায়। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক নতুন ডিলার নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্খা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্খানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
জানা গেছে, সার বিতরণ ব্যবস্খায় বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করে কৃষকের কাছে যথাসময়ে সার তুলে দেয়া নিশ্চিত করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯ কার্যকর হচ্ছে। নতুন নীতিমালায় আগে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের নিয়োগ বহাল রাখা হলেও তাদের কোনো বিক্রয়প্রতিনিধি থাকছে না। খুচরা সার বিক্রির ক্ষেত্রে আইডি কার্ড পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি খুচরা সার বিক্রির জন্য মনোনীতদের এই আইডি কার্ড প্রদান করবে।
নীতিমালায় পরোক্ষভাবে খুচরা বিক্রেতা নিয়োগে সংসদ সদস্যদের হাতে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। জেলার সব সংসদ সদস্য সার বিক্রেতা বাছাই কমিটি ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির উপদেষ্টা থাকবেন। একই সাথে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন বিক্রেতা বাছাই কমিটিতেও স্খানীয় এমপি’র মনোনীত প্রতিনিধি থাকছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র দাবি করেছে, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে সারা দেশে কৃষকরা স্খানীয় বাজার থেকে তাদের চাহিদা মতো সার কিনতে পারবেন।
আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সার বিতরণ ব্যবস্খায় জটিলতা নিরসনে খুচরা সার বিক্রেতা নিয়োগ পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিল। পরে বিএনপি সরকার সেই পদ্ধতি বাতিল করে। নয়া নীতিমালা কার্যকরের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার সার বিক্রেতা নিয়োগে তাদের আগের পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফোকাস বাংলা নিউজকে বলেন, তিনি দীর্ঘ ২০ বছর খুচরা বিক্রেতা হিসেবে সার বিক্রি করছেন। এত দিন তিনি বিসিআইসি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এক ডিলারের অধীনে সাব-ডিলার ছিলেন। নতুন পদ্ধতিতে সার বিতরণের নীতিমালায় তার সাব-ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যায়। সম্প্রতি কৃষি অধিদফতরের নিয়ম মেনে তিনি খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। পুরনো ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী হয়ে আবেদন করেও তিনি খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিয়োগ পাননি। সেখানে আওয়ামী লীগের পৌরসভার এক নেতাকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দত্তের বাজার ইউনিয়নের এক পুরনো ব্যবসায়ী জানান, তিনি প্রত্যেক বছর কৃষি অধিদফতরের শর্ত মেনে ১৫ বছর ধরে সার বিক্রি করছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ী হওয়ায় বিগত জোট সরকারের সময় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। ক্রয়মূল্যের চেয়ে প্যাকেটপ্রতি ৫০ টাকা লোকসান দিয়েও তাকে সার বিক্রি করতে হয়েছে। তবুও তিনি ব্যবসা বìধ করেননি। কিন্তু মহাজোট সরকার নতুন নীতিমালা করায় এ বছর থেকে তিনি আর সার বিক্রয় করতে পারবেন না। তিনি জানান, উপজেলা কৃষি অধিদফতর থেকে খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ পেতে আবেদন করার জন্য তাকে অবহিত করা হয়নি। সরকারদলীয় দুইজন নেতা যারা কখনোই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না, এমন ব্যক্তিকে স্খানীয় সংসদ সদস্য খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করেন। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার এক ব্যবসায়ী জানান, জেলা কৃষি অধিদফতর থেকে নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও তিনি সরকার সমর্থিত ব্যবসায়ী না হওয়ায় তাকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি। সারা দেশে খুচরা বিক্রেতা নিয়োগে একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার কৃষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, সার বিক্রয়ে খুচরা বিক্রেতা নিয়োগে সরকারদলীয় নেতাদের যেভাবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তাতে সার নিয়ে নতুন করে কেলেঙ্কারির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, খুচরা বিক্রেতারা দলীয় লোকদের অগ্রাধিকার দিয়ে সার বিক্রি করবে। বিরোধী দলের সমর্থন করেন এমন কৃষকদের মাঝে সার বিক্রয় করা হবে না। ফলে সারের অভাবে ফসল উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে। তাতে দেশের কৃষিতে বড় ধরনের ধস নেমে আসবে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ইউপি’র কৃষক হাফিজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন এলাকায় সার বিক্রি করছেন এমন ব্যবসায়ীরা খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিয়োগ পাননি। ইউনিয়নের সরকারি দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনতার কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিরা সার বিক্রেতা নিয়োগ পাওয়ায় কৃষকদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
সার ও বীজ মনিটরিং বিভাগের মহাপরিচালক এ ব্যাপারে জানান, সরকার সহজ উপায়ে কৃষকদের মাঝে সার পৌঁছে দিতেই আগের ডিলারদের বহাল রেখে ইউনিয়নভিত্তিক সাতজন খুচরা প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যানদের দেয়া তালিকা যাচাই-বাছাই করে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রকৃত ব্যবসায়ীদেরই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে দলীয় বা বিশেষ কোনো পদ্ধতিকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগপন্থী নতুন ৬০২ জন খুচরা সার ডিলার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই ডিলারদের মাধ্যমে এ সার দেয়া হবে বলে জানা গেছে। নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার ছাড়া অন্য কেউ সার বিক্রি করতে পারবে না। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন নীতিমালায় রাজশাহী জেলায় নতুন করে ৬০২ জন খুচরা সার ডিলার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। জেলায় ৮৯ জন বিসিআইসি ডিলারের অধীনে এই খুচরা ডিলাররা কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করবেন। অভিযোগ উঠেছে, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দলীয়করণ করা হয়েছে। সেই সাথে বিপুল অর্থের লেনদেন হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, জেলার নয় উপজেলায় চলতি মাসে কৃষক পর্যায়ে সার বিতরণের জন্য ডিলার বা বিক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগের আহ্বান করা হলে প্রায় ২০ হাজার আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের পর ৬০২ জনকে খুচরা ডিলার হিসেবে নিয়োগ দানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এতে শুধু আওয়ামীপন্থীরাই সুযোগ পান। এসব ক্ষুদ্র ডিলার তথা বিক্রয়প্রতিনিধির কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে এমপি’র মনোনীত আওয়ামী লীগ নেতারা এ ধরনের অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র মতে, চলতি মাসের মধ্যেই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করবে কৃষি বিভাগ। এরপরই নতুন ডিলারের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সার বিতরণ করা হবে। এ জন্য জেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটিতে সাতজন করে খুচরা ডিলার নিয়োগ করছে কৃষি বিভাগ।
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ আলমগীর জানান, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সাতজন করে মোট ১২৬ জন ডিলার নিয়োগ করা হবে। তবে এর অনুকূলে আবেদন জমা হয়েছে ৩৯৭টি। জমাকৃত আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট ইউপি ও পৌর কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির যাচাইকৃত আবেদনগুলোই উপজেলা কমিটি চূড়ান্তভাবে নিয়োগ করবে। একইভাবে জেলার নয় উপজেলায় ২০৬ জন খুচরা ডিলার নিয়োগ-প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সার বিক্রি শুরু হলে কৃষকরা সঠিক দামে ও সহজে সার পাবেন বলে আশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
নতুন নীতিমালায় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিসিআইসি’র মাধ্যমে জেলাওয়ারি গুদাম স্খাপন করা, গুদাম থেকে সার সরবরাহের ব্যবস্খা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার সব সংসদ সদস্য সার বিক্রেতা বাছাই কমিটি এবং উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির উপদেষ্টা থাকবেন। একই সাথে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিতে জেলার সব উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা ও সীমান্তবর্তী জেলা-উপজেলার বিডিআর প্রতিনিধিকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জেলা পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি থাকবেন।
গতকাল রাজশাহীর জেলা প্রশাসক শেফাউল দাবি করেন, অনিয়ম হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে হতে পারে। জেলা পর্যায়ে এ ধরনের অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
পাংশায় চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
রাজবাড়ী সংবাদদাতা 30/09/09

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গত সোমবার সìধ্যায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাগদুলি বাজারে পাংশা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের প্রধানসহ আট ছাত্রনেতা আহত হয়েছেন। আহত তৌহিদুল ইসলাম বাবুকে আশঙ্কাজনক অবস্খায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, ফরহাদ হোসেনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, ফরিদ ও দেলোয়ারকে রাজবাড়ী সদর এবং জাহিদুল ও জনিকে পাংশা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বাজারের দু-তিনটি দোকান ভাঙচুর হয়। এ ঘটনায় বাগদুলি বাজার এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাংশা থানায় পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মৌরাট ইউপি’র আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে তৌহিদুল ইসলাম গ্রুপ ও মৌরাট ইউপি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারির ভাতিজা জাহিদুল ইসলাম সবুজ গ্রুপের মধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাগদুলি বাজারের আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন খাত থেকে আসা চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ ও রেষারেষি চলে আসছিল। এ নিয়ে পাংশা থানা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কয়েক দফা সালিস-বিচারও করেছেন। কিন্তু তাতেও ওই দুই পক্ষ মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি।
সোমবার তৌহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে বাগদুলি বাজারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পথে জাহিদুল ও তার ভাই জনি তাকে থামিয়ে মারধর করে। সংবাদ পেয়ে তৌহিদুল ইসলাম গ্রুপের লোকজন ঘটনাস্খলে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
বগুড়ায় যুবলীগের তাণ্ডব : ভাঙচুর লুটপাট অগ্নিসংযোগ
তানোরে সাংবাদিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা
নয়া দিগন্ত ডেস্ক 30/09/09

বগুড়ার গাবতলীতে যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় দলীয় ক্যাডাররা তাণ্ডব চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে খবর ছাপায় রাজশাহীর তানোরে সাংবাদিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে বিএনপি নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।
বগুড়া অফিস ও গাবতলী সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার গাবতলীতে যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনার জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার তার জানাজা শেষে যুবলীগ ক্যাডার ও তাদের সমর্থকরা আসামিদের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এতে ১৩টি বাড়ি, দোকান ভাঙচুর, গোয়ালঘর, খড়ের গাদা ও পাটখড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে চককাতুলী গ্রামের বাসিন্দা ও গাবতলী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন পার্শðবর্তী গ্রাম মধ্যকাতুলীতে সালিসি বৈঠকে চোরের পক্ষে কথা বললে কয়েকজন যুবক তাকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্খায় তাকে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার সকালে তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় সাগরসহ ২১ জনকে আসামি করে নিহত মামুনের ছোট ভাই বকুল বাদি হয়ে গাবতলী থানায় একটি মামলা করেন। গতকাল মঙ্গলবার মামুনের নিজ বাড়ি চককাতুলীতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ কর্মী-সমর্থক ও একদল গ্রামবাসী মধ্যকাতুলীতে গিয়ে মামলার প্রধান আসামি সাগর ও জাহাঙ্গীরের বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধরা সাগর ও জাহাঙ্গীরের বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করে। এতে সাগর ও জাহাঙ্গীরের বাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে মিস্টার, রেজাউল ও হাসানসহ কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি আহত হন।
পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির জানান, পরিস্খিতি এখন শান্ত। ঘটনাস্খলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, সংবাদ প্রকাশের আভিযোগ এনে রাজশাহীর তানোর উপজেলার স্খানীয় একটি দৈনিকের প্রতিনিধির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গতকাল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের সমর্থক বাবু ও তার সহযোগীরা। এ ব্যাপারে ওই প্রতিনিধি সাইদ সাজু বাদি হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে গতকাল তানোর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে সাইদ সাজু তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সাইদ ফটো স্টুডিওতে অবস্খানকালে সেন্দুকাই গ্রামের বাবু (৩৩), তানোর চৌবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী মালশিরা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মুসলেম উদ্দীনের বিরুদ্ধে একটি দেনিক পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশের কারণে সাইদ সাজুকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও নানা প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে এক পর্যায়ে হামলা করলে পাশের দোকানদাররা তাকে রক্ষা করেন।
এ ব্যাপারে তানোর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি ব্যবস্খা নেয়া হবে।
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারে বিএনপি’র এক নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে আ’লীগের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে আ’লীগের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার। উপজেলার জয়াগ বাজারের কাঠ ব্যবসায়ী ও চাটখিল উপজেলা বিএনপি’র সহসভাপতি মো: মোবারক উল্লাহর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ১০-১৫ জন আ’লীগ কর্মী এসে আ’লীগের সাইনবোর্ড লাগিয়ে তা দখল করে নেয়। মো: মোবারক উল্লাহ জানান, কয়েক দিন ধরে স্খানীয় আ’লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি দখলের চেষ্টা চালায়। আমি বিষয়টি সোনাইমুড়ী থানাকে অবহিত করেছি। গত সোমবার রাতে পুলিশ ঘটনাস্খল পরিদর্শন করলেও কাউকে গ্রেফতার করেনি।
হাঁটুর ব্যথায় করণীয়


অনেক দিন শরীরে ব্যথা থাকলে তাকে অনেকে বাত ব্যথা বলে থাকেন। ডাক্তারি বিদ্যায় এটাকে রিউমেটিক পেইন বলে। এ ধরনের বাত ব্যথা বয়ষ্কদের বেশি হয়, তবে কম বয়সীরাও অনেক সময় এ রোগে ভুগে থাকে। হাঁটু ব্যথার অনেক কারণ আছে যেমন- আঘাতজনিত হাঁটু ব্যথা, বাতজনিত হাঁটু ব্যথা, জীবাণু সংক্রমণজনিত ব্যথা ইত্যাদি। হাঁটুর অস্খি সংযোগে ব্যথা প্রথমে অল্প থেকে শুরু হয় এবং ক্রমে তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। হাঁটুর অস্খি সংযোগে দুর্বলতা বা জোর না পাওয়ার অনুভূতি হয়। ব্যথার সাথে প্রদাহ হতে পারে। এই প্রদাহ হলে হাঁটু কিছুটা ফুলে যায়। ব্যথা উপশমকারী ওষুধ হিসেবে প্যারাসিটামল উত্তম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইনডোম্যাথাসিন, ডাইক্লোফেন্যাক, আইবুপ্রোফেন রোগীর অবস্খা অনুযায়ী দেয়া হয়ে থাকে। ব্যথা থাকা অবস্খায় মাংসপেশি শিথিলকরণ ওষুধ যেমন, ডায়াজিপাম সেবন করা যেতে পারে। সব ক্ষেত্রে একমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক নির্দিষ্ট মাত্রায় সঠিক নিয়মে ওষুধ খেতে হবে। ইন্টারনেট।
ফায়ারওয়াল এনাবল ডিজএবল

আহসান আল মাসুম
ফায়ারওয়াল এনাবল বা ডিজএবল করার জন্য প্রথমেই ওপেন করুন কন্ট্রোল প্যানেল, তারপর ডাবল ক্লিক করুন নেটওর্য়াক কানেকশনসে। এবার নতুন যে বক্সটি আসবে সেটির মধ্য থেকে কানেকশনের ওপর রাইট ক্লিক করুন এবং ক্লিক করুন অ্যাডভান্স ট্যাবের ওপর। এবার আপনার ইচ্ছেমতো এনাবল বা ডিজএবল করার জন্য বক্সটি চেক বা আনচেক করুন।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির দুই বìধু বিল হিউলেট ও ডেভ প্যাকার্ড ১৯৩৯ সালে এইচপি অর্থাৎ হিউলেট প্যাকার্ড প্রতিষ্ঠিত করে। এইচপি সর্বপ্রথম তৈরি করে অডিও অসিলেটর, যার প্রথম ক্রেতা ছিল ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিও।
এটি ফ্যান্টাসিয়া মুভির অডিও ডেভেলপের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।
স্বামীকে বাঁচাতে ৭তলা থেকে লাফ



দক্ষিণ চীনের একটি শহরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বৈদ্যুতিক তার চুরির মামলা হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়ি ঘেরাও করে। লোকটি যাতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা না করে সে জন্য পুলিশ বহুতল ওই ভবনের চারপাশে মোটা তোষক বিছিয়ে দেয়। পুলিশ সন্দেহভাজন ওই চোরের সাত তলার ফ্ল্যাটে উঠার প্রস্তুতি নিতেই ওই ফ্ল্যাট থেকে তার স্ত্রী লাফিয়ে পড়েন তোষকের উপর। আকস্মিক এ ঘটনায় হতভম্ব পুলিশের দলটি মহিলাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে ওই ফাঁকে পালিয়ে যান তার স্বামী। সাত তলা থেকে লাফিয়ে পড়লেও মহিলা তেমন গুরুতর আহত হননি। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। ইন্টারনেট।
ভারতের তামিলনাড়ুর একটি মন্দিরে নারীদের চাবুক মারার দৃশ্য


সম্প্রতি মহিলাদের চাবুক মারার ঘটনা ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে। আর একজন দু’জন নয়, মাত্র দু’দিনের মধ্যে চাবুক মারা হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি নারীকে। তাদের মধ্যে স্কুলের ছাত্রী ও বেশ কিছু কিশোরীও রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর নামকাল জেলার বাভিথ্রাম ভেল্লালপট্টি এলাকার শ্রীআচাপান মন্দিরে।
প্রাচীন এই হিন্দু মন্দিরটিতে প্রতি বছর বিজয়া দশমীর দিনে মূলত নারীদের নৃশংসভাবে চাবুক মারার প্রথাটি স্খায়ী এক ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর নিয়ম মোতাবেক ওই বছরও বিজয়ী দশমীর দিন অর্থাৎ ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর নারীদের চাবুক মারার এই ‘উৎসব’ পালিত হয়েছে। শক্তিশালী যুবক পুরোহিতরা ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে শান্তি ও মুক্তির প্রত্যাশী কিংবা অশুভ শক্তি ভর করা বলে চিহ্নিত নারীদের একের পর এক চাবুক মারতে থাকেন। পুরোহিতদের চাবুক দ্বারা ক্ষতবিক্ষত হলে কল্যাণ পাওয়া যাবে কিংবা অশুভ প্রেতাত্মা বিতাড়িত হবেথ এই হচ্ছে এলাকার হিন্দু পুরোহিত ও তাদের অনুসারীদের বিশ্বাস। প্রতি বছর এ জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ বছর দেখা যায়, মন্দিরের সামনে চাবুক মারার জন্য আধকিলোমিটার লম্বা সারিতে নারীদের জড়ো করা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর দেখা গেল এক নৃশংস দৃশ্য। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া কিশোরী ও তরুণীসহ পুরোহিতদের মোটা দড়ির সজোর চাবুক আছড়ে পড়ছে মহিলাদের শরীরে। আহত এই নারীরা মাঠের মধ্যে পড়ে কাতরাচ্ছেন। অনেকের শরীরের চামড়া ফেটে গিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। কেউ কাঁদছেন সশব্দে আর কেউ বা নীরবে অশ্রুপাত করছেন। অনেককেই চার-পাঁচবার করে চাপকানো হচ্ছে।
দ্বাদশ ক্লাসের ছাত্রী বণিতা চাবুক খেয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। কাঁদতে কাঁদতে সে সাংবাদিকদের জানায়, তাকে চাবুকের মার সহ্য করার জন্য লাইনে বসতে হয়েছে। কারণ তার বাবা-মা মনে করেন, লেখাপড়ায় তার মন নেই। আর এটা হয়েছে নাকি কোনো অশুভ আত্মার জন্য। বণিতা আরো বলে, আমার বাবা-মা জোর করে এখানে আসতে আমাকে বাধ্য করেছে। ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে আমার বìধুরা আমাকে সন্দেহের চোখে দেখবে। ভাববে, আমি ভূতপ্রেত দ্বারা আচ্ছন্ন। নারীদের এই চাবুক মারার ‘উৎসবে’ ১১-১২ বছরের ছাত্রীরাও রয়েছে। তাদেরও অশুভ শক্তি থেকে মুক্ত করার জন্য এখানে আনা হয়েছে। একজন নববধূকেও পুরোহিতদের চাবুকের প্রহারে অংশ নিতে এখানে নিয়ে আসা হয়। তার শ্বশুর-শাশুড়ি মনে করেন, নববধূর মধ্যে অশুভ শক্তি ভর করে আছে। স্খানীয় এক ব্যক্তি জানান, এইভাবে পুরোহিতদের চাবুক মারা সহ্য করতে পারলে মানসিক এবং শারীরিক সব অসুখ দূর হয় বলে তাদের বিশ্বাস।
এই জঘন্য প্রথা কি অপরাধ নয়? এ কথা জিজ্ঞেস করলে মন্দিরের পুরোহিত কে গুয়ানদান বলেন, বিষয়টি মোটেই সে রকম নয়। বিশ্বাসীরা এখানে নিজে থেকে হাজির হন বলেই আমরা চাবুক দ্বারা প্রহার করি। প্রায় হাজার বছর ধরে এই প্রথা চলছে। আমরা এই প্রথা তুলে দিতে পারি না।
২৮ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর দিন শুরু হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর এই চাবুক মারার ‘উৎসব’ শেষ হয়। এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ সমবেত হন। চাবুক মারার ‘সুবন্দোবস্তের জন্য’ পুলিশ ও প্রশাসন কর্তৃপক্ষ এখানে উপস্খিত থাকেন। পুলিশের উপস্খিতি অবশ্য এবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সরকার সমর্থকদের আচরণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে অস্খিরতা
আবু সালেহ আকন


সরকারি দল সমর্থকদের আচরণে অস্খির হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধের সাথে সরকার সমর্থকরা উদ্বেগজনকহারে জড়িয়ে পড়ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এতে ক্রমেই দেশের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতির অবনতি ঘটছে। এ অবস্খায় মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুষ্টের লালন ও শিষ্টের দমন করছে। সরকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
সূত্রাপুরে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ফেরার পথে গত সোমবার রাতে গুলিতে খুন হয়েছেন গৌতম সরকার নামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। সূত্রাপুর থানা পুলিশ বলেছে, পূজামণ্ডপের কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এই খুন ঘটেছে। তবে স্খানীয় সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনা ঘটেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে। এর সাথে সরকার সমর্থকরাই জড়িত বলেও স্খানীয় সূত্র জানায়।
এভাবে সারা দেশেই ঘটছে খুন-খারাবি, জমি দখল, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘটনার সাথেই সরকার সমর্থকরা জড়িত।
অনুসìধানে দেখা গেছে, সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে নারী নির্যাতন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী এই ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। নারীদের শ্লীলতাহানি করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, ওই অপকর্মের ভিডিও করে তা সিডি করে বাজারজাত পর্যন্ত করেছে তারা। পিরোজপুরে এরূপ বেশ কিছু সিডি উদ্ধার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্খার সদস্যরা। প্রেমের ফাঁদে ফেলে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আহসান কবির মামুন ওরফে টাইগার মামুনের নেতৃত্বে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চিত্র রয়েছে ওই সিডিতে। সম্প্রতি নাজিরপুর কলেজ শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম সেন্টুর নেতৃত্বে একই কলেজের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে উপজেলা বন বিভাগের নার্সারির মধ্যে ফেলে রাখে। এসব ঘটনায় মামলা হলেও হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত রোববার রাতে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে স্খানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১০ নেতাকর্মী। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতারা সালিস করে দিয়েছেন। ১০ জনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০০ বেত্রাঘাত শাস্তি হয়েছে। লোকলজ্জা ও সরকারি দলের ভয়ে ওই ছাত্রীর পরিবার কোনো মামলা দায়ের করেনি। পুলিশও এ বিষয়ে মামলা নিতে উদ্যোগী হয়নি।
গত রোববার রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া তুষখালী বাজার পূজামণ্ডপে তরুণীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজমল হক হেলাল। সন্ত্রাসীরা তখন তার ওপর হামলা চালায়। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি আহত হন। হেলাল জানান, ঘটনাস্খলে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা সন্ত্রাসীদের আটক করতে অপারগতা প্রকাশ করে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর এক তরুণী রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখানে সেন্টু, মিজান ও পলাশ নামের তিন সন্ত্রাসী তরুণীকে জোর করে নৌকায় তুলে পালাক্রমে নির্যাতন চালায়। পরে তাকে অজ্ঞান অবস্খায় বাঁধের ওপর ফেলে যায় সন্ত্রাসীরা। স্খানীয় মাতব্বররা এ ঘটনার বিচার করে দেয়ার কথা বলে থানায় মামলা না করার নির্দেশ দেয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিচার বসানোর কথা বলে স্খানীয় কিলার সালাহউদ্দিন ওই কিশোরীকে বাসা থেকে নিয়ে যায়। সেখানে আবারো তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চলে। স্খানীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্যাতনকারীরা স্খানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মী। ওই কিশোরী থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তাকে থানা থেকে বের করে দেয়।
কামরাঙ্গীরচরের অপর ঘটনাটি ঘটেছে রসুলপুরের দেড় নং গলি এলাকায়। স্খানীয় সূত্র জানায়, স্খানীয় আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়দানকারী মিন্টু মোল্লা ওই এলাকার এক তরুণীকে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা কালা মনসুর বিষয়টি ‘সালিস’ করে দেয়ার কথা বলে। ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে তিন নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে ইউসুফ, মনসুর, কালা বাবুল, কালা মজিবর ও কানা কাদির উপস্খিত ছিল। সালিস বৈঠকে মিন্টু মোল্লার বিচার না করে উল্টো স্খানীয় যুবক মঈনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আওয়ামী লীগেরই কিছু নেতা-নেত্রী এর প্রতিবাদ করলে সালিসদাররা তাদের বৈঠক থেকে বের করে দেয়।
মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, সম্প্রতি সরকার সমর্থকরা যা করছে তা নি:সন্দেহে উদ্বেগের। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান শুভ্র নয়া দিগন্তকে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না। গণতন্ত্রের লক্ষ্য হচ্ছে মানবাধিকার রক্ষা করা। বর্তমান সরকারের ছাত্র ও যুবলীগ ভয়াবহ পরিস্খিতি সৃষ্টি করে রেখেছে।
আদিলুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে যেতে পারে না। তারা দুষ্টের লালন ও শিষ্টের দমন করছে। তিনি বলেন, এই পরিস্খিতিতে গণপ্রতিরোধ ছাড়া মুক্তির পথ নেই। সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। দু-একটি পত্রপত্রিকা ও মানবাধিকার সংগঠন এই পরিস্খিতির বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে তারাও কোণঠাসা।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান নয়া দিগন্তকে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। ছাত্রলীগ-যুবলীগ যা করছে তা সরকারের নামের ওপর কলঙ্ক ফেলছে। তিনি বলেন, নিজ সুনাম রক্ষা করতে হলে সরকারের উচিত ওসব ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা। তিনি এসব ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের এক্ষুনি গ্রেফতার করা প্রয়োজন।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিভিন্ন ঘটনায় তারাও উদ্বিগ্ন। এভাবে চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতির মারাত্মক অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

Tuesday, 14 April 2009

সিডনিতে মন্দির প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দিয়ে ইসলাম গ্রহন করলেন

বিশ্বস্থসুত্রে জানা গেছে যে শুধুমাত্র বৈবাহিক কারনেই সিডনীতে একজন হিন্দু ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধিকার সচেতন একজন নেতা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ধর্মাšতর পর উক্ত নও-মুসলিম নিজের নাম মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রেখেছেন। আধুনিক মুসলিম বিশ্বের জন্যে এটি একটি নেয়ামত ও মহা সুসংবাদ। উক্ত ঝঞ্জাটের কারণে দখ্খীন ভারতীয় আদলে সিডনীতে হিন্দুদের একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করার ঘোষনা দেয়ার পরেও তা আপাতত তিনি বা¯তবায়ন করতে পারছেন না। কিন্তু সিডনীর বাংলাদেশী মুসলমানরা কয়েকটি মাসালা ও একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও বাংলাদেশী হিন্দুদের পুজা-পার্বন করার কোন আসন বা মন্দির আজো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই উক্ত সম্প্রাদায়ের প্রাণের দাবী এই প্রশাšত মহাসাগর পাড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্যে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করে যাওয়া। তাও তাজুল ইসলামের ধর্মাšতরের কারণে এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল। আর বুঝি বাংলাদেশী হিন্দুরা মন্দির পেলন না। তবুও ধর্মানুরাগী অনেক হিন্দুরা আজো বুকে পাথর চেপে গগনমুখী ভগবানের দৈব শক্তির পানে চেয়ে আছেন। তাজুল ইসলাম কি শেষ পর্যšত সনাতন ধর্মের মন্দির প্রতিষ্ঠা করে তার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবেন? সংগ্রহ কর্ণফুলি

কলিযুগের রহিম বাদশাহ ও রপবান

কলি’র এই যুগে মাত্র একযুগ বয়সী একটি শিশু গত সোমবার [০৯/০২/২০০৯] বাবা হলো। তেরো বছর বয়সি উক্ত বৃটিশ শিশুটি তার ১৫ বছর বয়সি বালিকা বন্ধুর সাথে একরাতে অরতি কায়দায় সঙ্গম করে সম্প্রতি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে সারা বৃটেনে মহা তোলপাড় তুলে দিয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশেড়বর উত্তরে ধাঁধাঁগ্রস্থ উক্ত ‘শিশু-পিতা’ জানেনা কিভাবে এখন সে তার পৈতৃক দায়ীত্ব পালন করবে। উক্ত বৃটিশ ‘শিশু-পিতা’ আলফী প্যাটার্ন সাংবাদিকদের প্রশেড়বর জবাবে আরো বলেছে ‘শিশুদের ন্যাপী’র মুল্য কত আমি জানি না, তবে মনে হয় অনেক দাম হবে।” বয়সের তুলনায় কচি-মুখের উক্ত ‘শিশু-পিতা’কে দেখতে মাত্র ৮ বছর বয়সি মনে হয়। তার ১৫ বছর বয়সি বালিকা বান্ধবি শ্যান্টেল ষ্টিডম্যান একটি সুস্থ্য কন্যা সন্তান জন্ম দেয়, নবজাতিকার নাম ম্যাসি রোক্্রানা। উক্ত শিশু দম্পতি সাংবাদিকদেরকে তাদের গর্ভধারনের রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা এবং কিভাবে গোপনে গর্ভনাশ বিষয়টি তারা এড়িয়ে গেছে তা বি¯তারিত বর্ণনা করেছে। সাংবাদিকরা শিশু-পিতা আলফীকে জিজ্ঞেস করে, “কিভাবে তুমি এখন ফাইনানসিয়ালি বিষয়টি মোকাবেলা করবে?” উক্ত কঠিন শব্দের সাথে অপরিচিত অবুঝ আলফী সাংবাদিকদেরকে উল্টো জিজ্ঞেস করে বসে, “ফাইনানসিয়াল শব্দটির অর্থ কি?” লাজুক আলফী যার কন্ঠে এখনো শিশুর স্বর সে আরো বললো, “আমি ভেবেছিলাম একটি শিশু জন্ম দিলে ভালোই হয়। আমরা ভাবিনি কিভাবে আমরা আমাদের নবজাতিকাকে দেখভাল করবো। আমার নিজেরো কোন জেব-খরচ (পকেট-মানি) নেই। আমার মা যখন প্রথম বিষয়টি জেনেছিল আমি তখন ভেবেছিলাম আমি মহাবিপদেই পড়ে গেছি। আমরা শিশুটা রাখতে চাইছি কিন্তু জানিনা প্রতিবেশী লোকেরা কি বলবে। আমি জানতাম না বাবা হওয়ার অনুভুতিটি কেমন। তারপরেও একজন ভালো পিতা হতে আমি চেষ্টা করবো।” আলফী’র বালিকা বন্ধু শ্যান্টেল একজন স্কুল পড়–য়া মেয়ে। সন্তান প্রসবের পর শ্যান্টেল হাসপাতাল থেকে তার বাবার বাড়ীতে যায় যেখানে তার আরো পাঁচজন সšতান সহ তার পিতামাতা বাস করে। এই শিশু-দম্পতির উভয় পিতামাতারা সরকারী ভাতার উপর জীবনযাপন করছে। উক্ত বিষয়টি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল সহ সকল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ভাবিয়ে তুলেছে, বিব্রত হয়েছে সংরনবাদী লাখো পিতামাতারা। তারা বৃটেনে অল্পবয়সে গর্ভধারন বিষয়টিকে রোধ করার কথা কঠিনভাবে ভাবছে।

ছাত্রলীগের তান্ডব এ তান্ডব কি থামানো যাবেনা?

রায়পুরে কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ
Wednesday, April 1, 2009

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার বামনী গ্রামে এক প্রবাসীর কিশোরী কন্যা পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তরুণলীগের ৪ নেতার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়পুর থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় উক্ত দিন সন্ধ্যায় তাৎণিক এক সভায় উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ইউসুফ আজম সিদ্দিকীকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। তারা এ মর্মে একটি সুপারিশ জেলা কমিটির নিকট প্রেরণ করেছে বলে যুগ্ম আহবায়ক আবু সাঈদ চৌধূরী শাকিল জানিয়েছেন।
মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে প্রবাসী লেদু মিয়ার কিশোরী কন্যা (১৬) কে বামনী গ্রামের চৌধুরিয়ার বাড়ি থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ইউসুফ আজম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল যুবক নিয়ে যায়। ওই রাতেই তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ইউসুফ আজম (২৮), ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন (৩৫), উপজেলা তরুণলীগ যুগ্ম আহবায়ক সুজন কুমার ঘোষ (২৫) ও উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মুকুল পাটওয়ারী (৩৫) ও অজ্ঞাত এক যুবক। ঘটনার পরদিন সকালে কিশোরীকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। এ নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া হলে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তার পরিবার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। একইদিন পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সে নিজে বাদী হয়ে ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। ঘটনার শিকার কিশোরী (লাভলী) বলেন, অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পুলিশী সহযোগিতা না নেওয়ার জন্য আমাদেরকে শাসিয়েছে। আমার উপর অমানুষিক ও বর্বর নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। অভিযুক্ত ইউসুফ আজম সিদ্দিকী বলেন, আমি ঘটনায় জড়িত নই। ওইদিন রাত ১০টায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে রাতে আমার জিম্মায় রাখি। আমি পরিস্থিতির শিকার। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসমাইল হোসেন খোকন বলেন, দলের ভাবমূর্তি ুন্ন করায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এখানে ক্লিক করুন

Saturday, 11 April 2009

জৈবিক সত্তা এবং রাজনৈতিক জীবন

আমাদের সমাজে রাষ্ট্র, রাজনীতি, আইনের সঙ্গে মানুষের জৈবিক সত্তার সম্পর্ক সংক্রান্ত ধারণাগুলোকে প্রশ্ন করবার- চিন্তার দরবারের সওয়াল-জবাব করবার তৌফিক আমরা এখনো অর্জন করিনি। মানুষ আধুনিক রাষ্ট্রে শুধুই কি ‘নাগরিক’? তার রাজনৈতিক পরিচয়ই কি শেষ কথা, নাকি মানুষ একই সঙ্গে প্রাণ বা জীবও বটে। যে জীবের জীবন নিয়ে মানুষ প্রাণসম্পন্ন হয়ে বাঁচে সেই জীবনের সঙ্গে মানুষের রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় জীবনের সম্পর্ক কোথায়? রাষ্ট্র, আইন ও নাগরিকতার সঙ্গে প্রাণের বা মানুষের জীবনের সম্পর্কটা আসলে কী ? বলা হয়ে থাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে জনগণের ইচ্ছা ও সংকল্পের ওপর, সংবিধান যার অভিব্যক্তি। তাহলে জীবনের অবস্থানটা এখানে কোথায়? জীবনের সঙ্গে জীবনের ইচ্ছা ও সংকল্পের? মানুষ কি শুধু ইচ্ছা ও সংকল্পবান মাত্র? মানুষের জীবের জীবন বা প্রাণের জায়গাটার সঙ্গে তার রাজনৈতিক জীবন ও পরিমণ্ডলের ভেদচিহ্ন ঠিক কোথায়? কীভাবে এই ভেদটা ঘটল? সেই তর্ক রয়ে গেছে। রাজনৈতিক ইচ্ছা ও সংকল্পের সঙ্গে নাগরিকদের প্রাণ ও জীবনের সম্পর্ক এই কালে গুরুতর প্রশ্ন হয়ে এখন হাজির হয়েছে। নাগরিকদের প্রাণ বা জীবন রাষ্ট্রের রাজনৈতিকতা বা নাগরিকদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের সাথে কোথায় ও কীভাবে সম্পৃক্ত সেটা এই কালে প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্র হত্যা করতে পারে, কিন্তু সেটা করতে পারে আইনের অধীনে এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে- এই অনুমান এবং এই অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ‘রাষ্ট্র’ সংক্রান্ত ধারণার গোড়ায় কোনো মুশকিল আছে কি না সেটা বিচারের দরকার হয়ে পড়েছে।

আসলেই। রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবন হরণ করতে পারে- রাষ্ট্রের এই সার্বভৌম ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা খানিক সচেতন হয়ে উঠলেই একটা অস্বচ্চি তৈরি হয়। ‘সার্বভৌমত্ব’ বলতে আমরা যা বুঝি সেই বোঝাবুঝির ক্ষেত্রেও সংকট তৈরি হয়। সেটা আরো তীব্র হয়ে ওঠে যখন দেখা যায় রাষ্ট্র ও আইন সংক্রান্ত প্রচলিত তত্ত্ব বা ধারণার মধ্যে এই অস্বস্তির সুরাহা হয় না। সেটা বুর্জোয়া রাষ্ট্র চিন্তাই হোক, কিংবা হোক মার্কসীয় রাষ্ট্রের ধারণা। দুটো ধারণাই কথাকথিত ‘আধুনিক’ রাষ্ট্রের, কারণ উভয় ধারণার মধ্যে রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবন হরণ করতে পারে এই অনুমান সক্রিয়। মার্কসের রাষ্ট্র ধারণার মধ্যে রাষ্ট্র হচ্ছে শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অভিব্যক্তি। শ্র্রেণী শোষণের বিলোপের মধ্য দিয়ে সমাজের মধ্য থেকে তৈরি হয়ে সমাজের ঊর্ধ্বে উঠে যাওয়া রাষ্ট্র আবার সমাজের মধ্যেই বিলীন হয়ে যাবার - অর্থাৎ ‘শুকিয়ে মারবার’ কথা। এই প্রতিশ্রুতি মার্কস আমাদের দিয়েছেন। বলাবাহুল্য, মার্কসের ‘সার্বভৌমত্ব’ সংক্রান্ত ধারণা শ্রেণীর প্রশ্ন বাদ দিয়ে নয়। তাহলে সে সার্বভৌম ক্ষমতার বলে রাষ্ট্র নাগরিকদের প্রাণ হরণ করতে পারে সেই সার্বভৌমত্ব কোনো চিরকালীন বা শাশ্বত ব্যাপার নয়। রাষ্ট্রই যদি না থাকে, যদি বিলীন হওয়াই রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক নিয়তি তাহলে সার্বভৌমত্বও আর কিসের? কিন্তু মার্কস নিজে প্রশ্নটি আমরা যে জায়গা থেকে তুলছি, সেই অবস্থান থেকে তোলেননি। প্রচলিত মার্কসবাদও নয়। আমরা বড়জোর আন্দাজ করতে পারি মার্কসের রাষ্ট্র বা সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত ধারণা সুনিি র্দষ্ট ঐতিহাসিক বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত। যে বাচ্চবতার মধ্যে রাষ্ট্র নাগরিকদের প্রাণ হরণ করতে পারে এবং এই পারাটাকে স্বাভাবিক মনে করে, রাষ্ট্রের বিলয়ের মধ্য দিয়ে সেই বাচ্চবতা এবং তার সঙ্গে যুক্ত সকল ধারণারও বিলয় ঘটবে। কিন্তু ঘটবেই সেই দাবি করবার কোনো পদ্ধতিগত বা তত্ত্বগত দিকনির্দেশনা মার্কস বা মার্কসবাদের মধ্যে আমরা পাই না। অর্থাৎ পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিলয় ও রাষ্ট্রসকল শুকিয়ে মরার পরে ঠিক কী ঘটবে বা ঘটতে পারে সেই বিষয়ে আমরা চিন্তাই শুরু করিনি।

কিন্তু বড়লোকের রাষ্ট্র ও বড়লোকের আইনকে ভেঙে সংখ্যাগরিষ্ঠের বিধান বা গণতন্ত্র কায়েম করতে হলে বলপ্রয়োগের প্রশ্নকে আমরা আলোচনার বাইরে রাখতে পারি না। ওয়ালটার বেনজামিন যে কারণে তাঁর প্রখ্যাত নিবন্ধ ‘বলপ্রয়োগ বিচার’-এর শুরুতেই বলছেন, বলপ্রয়োগের বিচারের দায় অল্পকথায় আইন ও ইনসাফের সাথে তার সম্পর্ক বিশদ করে মেটানো যায়।’ অর্থাৎ বলপ্রয়োগের প্রশ্ন বিদ্যমান আইন ও সংবিধান বা রাষ্ট্রের বিপরীতে নতুন আইন, সংবিধান বা রাষ্ট্রের আবির্ভাবের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। বিদ্যমান আইন, সংবিধান বা রাষ্ট্রের চোখে তার প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি যখনই রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের ক্ষমতার ওপর একচেটিয়া বহাল রাখাকে চ্যালেঞ্জ করে তখন রাষ্ট্র তাকে সবসময়ই ‘সন্ত্রাসী’ বলতে বাধ্য। তাই নয় কি ? ‘কমিউনিস্ট’ বা ‘ইসলামপন্থি’ উভয়েই রাষ্ট্রের চোখে সন্ত্রাসী। অন্যদিকে বিদ্যমান রাষ্ট্র তার প্রতিপক্ষের চোখে অন্যায় রাষ্ট্র- তাকে টিকিয়ে রাখার কোনোই যৌক্তিকতা নাই। কি আদর্শ বাস্তবায়ন করবার জন্য বলপ্রয়োগ করা হলো বা বলপ্রয়োগ নীতিনৈতিকতার দিক থেকে ভালো কি মন্দ- সেই সকল তর্ক ওয়ালটার বেনজামিন দেখিয়েছেন আইন ও ইনসাফের সঙ্গে সম্পর্ক বিচারের দিক থেকে অপ্রাসঙ্গিক। আমরা নৈতিক দিক থেকে অহিসংবাদী হতেই পারি। নীতিগতভাবে বলপ্রয়োগ পছন্দ না করবার যথেষ্ট কারণ আমাদের থাকতে পারে। কিন্তু নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বলপ্রয়োগের সঙ্গে আইন ও ইনসাফের সম্পর্ক বুঝতে আমাদের সহায়তা করে না। অন্যদিকে আবার বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক বা কমিউনিস্ট বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বলপ্রয়োগ ‘ভালো’ বা সেটা ইতিবাচক অর্থে ‘বিপ্লবী কর্মকাণ্ড’- আর, ইসলামি বিপ্লব- যাদের আদর্শ ও উদ্দেশ্য আমরা পছন্দ করি না- সেই উদ্দেশ্য বাচ্চবায়নের জন্য বলপ্রয়োগ ‘মৌলবাদী’ ও মন্দ- উদ্দেশ্য দিয়ে বলপ্রয়োগ বিচারের এই পদ্ধতিও ওয়ালটার বেনজামিন দর্শনের জায়গা থেকে নাকচ করে দিয়েছেন। ঠিক তেমনি অসম, শোষণমূলক ও গরিবের ওপর ধনীর আধিপত্য বহাল রাখবার জন্য বলপ্রয়োগ মানেই ‘শান্তি’ রক্ষা ও সন্ত্রাস দমন- এই ধারণাও বিদ্যমান ব্যবস্থার সুবিধাভোগীদের ধারণা মাত্র- এই সহজ ব্যাখ্যাও যথেষ্ট নয়। বিদ্যমান আইন বা রাষ্ট্র বলপ্রয়োগ ছাড়া এবং বলপ্রয়োগের ওপর নিজের একচেটিয়া বহাল না রেখে টিকে থাকতে পারে না। আইন মাত্রই বলপ্রয়োগের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, বলপ্রয়োগ ও আইনের এই সম্পর্ক দার্শনিক পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বলপ্রয়োগের প্রশ্নকে হাজির করতে হবে আইন ও ইনসাফের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচার করে। কোন উদ্দেশে বলপ্রয়োগ করা হলো বা হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য বিচার করে বলপ্রয়োগের নিজস্ব স্বভাব আমরা ধরতে পারব না। বলপ্রয়োগের নিজস্ব চরিত্র ও ভূমিকাও আমরা বুঝব না।

এবার আসা যাক জীবের জীবন আর রাজনীতি- অর্থাৎ যে জীবন রাষ্ট্র বা সার্বভৌম ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত সেই বিষয়ে দুই-একটি কথা।



২.

গ্রিক ভাষায় ‘জন্তু’ (ুড়ব) ও জীবন (নরড়ং) দুটো ভিন্ন শব্দ, তাদের মানেও আলাদা। প্লেটো তাঁর চযরষবনঁং-এ তিন ধরনের ‘জীবন’ নিয়ে কথা বলেছেন। এরিস্টটল সেই প্রসঙ্গে তিন ধরনের জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাদের পাথর্ক্য নিয়েও আলোচনা করেছেন। এক ধরনের জীবন হলো তত্ত্বচর্চার বা দার্শনিকের জীবন (নরড়ং ঃযবৎবঃরশড়ং) ; ভোগ বা বিনোদনের জীবন (নরড়ং ধঢ়ড়ষধঁংঃরশড়ং) এই জীবন থেকে আলাদা। ঠিক তেমনি রাজনৈতিক জীবন (নরড়ং ঢ়ড়ষরঃড়শড়ং) অন্য দুই জীবন থেকে আলাদা। লক্ষ করার বিষয়, যে জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁরা কথা বলছেন জীবনের বিশেষ ধরন, বৈশিষ্ট্য বা মান নিয়ে। আলোচনার প্রসঙ্গ হচ্ছে মানুষের জীবনের ‘পরম ইষ্টি’ কী ? পরম ইষ্ট বা পরম ভালো ? মানুষের জীবনের পরামার্থিক মূল্য কিসে ?

ইটালির দার্শনিক গিওর্গিও আগামবেন গ্রিক শব্দের ব্যুৎপত্তি দিক বিচার করে বলছেন, প্রাকৃতিক জীবন বা জীবের জীবন নিয়ে প্লেটো বা এরিস্টটল কথা বলছেন না। জীবনের যে প্রকার বা ধরন নিয়ে তাঁরা কথা বলছেন সেখানে জীবনের জীবন- যে জীবন প্রাণী হিসেবে মানুষও যাপন করে- সেই জীবন একদমই তাঁদের বিষয় নয়। বরং কথা বলছেন জীবনের বিশেষ ধরন নিয়ে। জীবনের এই বিশেষ ধরনের ‘পরম ইষ্ট’ কোথায় পরিণতি লাভ করবে তার উত্তর দিতে গিয়ে এরিস্টটল তাঁর পলিটিক্স বইতে বলছেন :

‘জীবন সাধারণভাবে সকল মানুষ এবং প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদাভাবে [পরম ইষ্টর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ] এই জীবনের সর্বোত্তম পরিণতি। কিন্তু মানুষ আবার সংঘবদ্ধও হয় এবং জীবনের সহজভাবে বেঁচে থাকা বিবেচনা করে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর চরিত্রও বহাল রাখে। এর কারণ সম্ভবত এই যে শুধু জীবনযাপনের মধ্যেই এক ধরনের ইষ্ট আছে। জীবনযাপনের ধরনে যদি কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটে তবে এটা পরিষ্কার যে অধিকাংশ মানুষ জীবনের অনেক দুঃখকষ্ট সহ্য করেই জীবন ধারণ করবে, যেন জীবনের মধ্যেই এক ধরনের প্রশান্তি ও স্বাভাবিক মিষ্টময়তা বিরাজ করে।’

জীবের জীবন বা যে জীবন প্রকৃতি বা প্রাকৃতিতার অধিক কিছু নয় সেই সরল প্রাকৃতিক জীবন আর জীবন বলতে ওপরে বা বোঝানো হয়েছে দুইয়ের মধ্যে তফাত আছে। গ্রিক চিন্তার মধ্যে নগর-রাষ্ট্রের যে ধারণা সেখানে এই প্রাকৃতিক জীবন বা প্রাণ একদমই অন্তর্ভুক্ত নয়। জীবনের পরম ইষ্ট নগর রাষ্ট্রে যে পরম পরিণতি লাভ করে সেই জীবন আর প্রাকৃতিক জীবনের ধারণার মধ্যে এই গোড়ার পার্থক্য বজায় রেখেই গ্রিক নগর রাষ্ট্রের ধারণা এবং সেই ধারণা আত্মস্থ করে আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণা গড়ে উঠেছে। এই পার্থক্য কঠোরভাবেই মানা হতো, কারণ চড়ষরং যদি রাজনৈতিকতার পরিমণ্ডল হয় তাহলে তার বিপরীতে প্রাকৃতিক জীবন বা প্রাণের পরিমণ্ডল ছিল ঙরশড়ং বা গৃহ। এরিস্টটল রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সম্পত্তি প্রধান আর পরিবার প্রধানের মধ্যে পার্থক্য টেনেছিলেন এবং যারা এই দুইয়ের পার্থক্যকে নিছকই পরিমাণগত মনে করত, গুণগত নয়, তাদের তিরস্কার করেছেন। অর্থাৎ ঘর যেহেতু আহার, বাসস্থান ও সন্তান উৎপাদন ও প্রতিপালনের তার সঙ্গে রাজনীতির ক্ষেত্র গুণগতভাবে আলাদা। এই দুই ক্ষেত্রে জীবন বলতে আমরা যা বুঝি তার অর্থও আলাদা। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের যে জৈবিকতা আর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার যে রাজনৈতিক অচ্চিত্ব দুইয়ের পার্থক্য বজায় রেখেই আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণা গড়ে উঠেছে। এরিস্টটল জীবের জীবনের সঙ্গে রাজনৈতিক জীবনের গুণগত পার্থক্য এত পরিচ্ছন্নভাবে এঁকেছেন যে জীবের জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা আর রাজনৈতিক অচ্চিত্বের পার্থক্য হচ্ছে মানুষ ‘জীবন নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে কিন্তু অচ্চিত্ব যাপন করে আসলে পরম ইষ্টে’। পরম ইষ্টে অচ্চিত্ব যাপনের পরম পরিণতি নগর-রাষ্ট্র। এটি এরিস্টটলের পলিটিক্স গ্রন্থের একটি প্রখ্যাত উক্তি।

একই গ্রন্থে তাঁর বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে মানুষ রাজনৈতিক জীব। মানুষ জীব নয়, জীবের সঙ্গে তার পার্থক্যের জায়গা হচ্ছে জীব রাজনৈতিক নয়, কিন্তু মানুষ রাজনৈতিক। জীবের জীবন তার মনুষ্যত্বের সত্য নয়, তার সত্য রাজনৈতিকতায়। প্রজাতি হিসেবে জীবের সঙ্গে তার পার্থক্যের জায়গাও এখানে। মানুষের এই পার্থক্য নির্ণয়ের পরেই কেবল তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে মানুষের রাজনীতি গঠিত হয় রাজনৈতিকতার আরেকটি গুণ দিয়ে, সেটা হচ্ছে ভাষা। মানুষ ভাষাসম্পন্ন প্রাণী। অতএব জীবের মতো শুধু জীবের আরাম ও বেদনার মধ্যে মানুষের জীবন সংকীর্ণ নয় বরং ভাষার মধ্যে গড়ে ওঠে ‘ভালো’ ও ‘মন্দ’ সংক্রান্ত ধারণা এবং ‘অন্যায়’ ও ‘ইনসাফ’ ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে মানুষের রাজনৈতিক জগৎ বা রাজনৈতিক পরিমণ্ডল গড়ে ওঠে। জীবের জীবনের সঙ্গে মানুষের জীবনের পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো এরিস্টটলের এই জায়গা থেকেই শুরু করে তাঁর ‘ইন্দ্রিয়পরায়ণতার ইতিহাস’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন কীভাবে জীবের জীবন বাদ দিয়ে রাষ্ট্রের ধারণা গড়ে ওঠার পর আধুনিক রাষ্ট্রে মানুষের জৈবিক জীবন রাষ্ট্রের গোচরে আনা শুরু হয়। রাষ্ট্র ভূখণ্ডকেন্দ্রিক রাষ্ট্রের ধারণা জনগণকেন্দ্রিক ধারণায় রূপান্তরিত হতে শুরু করে, জনসংখ্যা, জনগণের স্বাস্থ্য ইত্যাদি রাষ্ট্রের বিষয়ে পরিণত হতে আরম্ভ করে। রাষ্ট্র ক্ষমতার কারিগরি বা কায়কারবারের মধ্যে মানুষের শরীর ও জৈবিক অস্তিত্ব নতুন হিসেবে নিকাশের অন্তর্ভুক্ত হয়। রাজনীতি, মিশেল ফুকোর ভাষায় জীব (শাসন) নীতিতে পরিণত হয়। ফুকো বলছেন, ‘হাজার বছর ধরে এরিস্টটলের কাছে মানুষ রাজনৈতিক অচ্চিত্ব যাপনের বাড়তি ক্ষমতাসম্পন্ন জীবন্ত জন্তু হয়েই ছিল; আধুনিক মানুষ হচ্ছে এমন জীব যার রাজনৈতিক অচ্চিত্ব তার জীব হিসেবে অচ্চিত্বযাপনকেই প্রশ্নবোধক করে তুলেছে।’

ফুকো চাইছিলেন রাষ্ট্র সংক্রান্ত চিন্তাভাবনা তাঁর সময় অবধি যেখানে প্রধানত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্রের বিচারে পর্যবসিত হয়ে গিয়েছিল সেখান থেকে রাষ্ট্র সরাসরি কীভাবে আমাদের শরীর ও জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রণ করে সেই বাচ্চব কারিগরির দিকে যেন আমরা নজর দেই। কোনো আগাম অনুমান ছাড়া। রাষ্ট্র আমাদের চিন্তা ও শরীর কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে সেই টেকনিকগুলো জানা রাষ্ট্র বোঝার জন্য জরুরি সন্দেহ নেই। রাষ্ট্র সংক্রান্ত ধারণার আইনি মডেল, যেমন, রাষ্ট্র ক্ষমতার বৈধতা তৈরি হয় কিসে, কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক বিচার, যেমন, রাষ্ট্র কাকে বলে- ফুকো এই মডেলগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন, যাতে রাষ্ট্র মানুষের মন ও শরীর উভয়কে আসলেই কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তার কলাকৌশল তিনি সরাসরি বর্ণনা করতে পারেন। রাষ্ট্রের আলোচনায় সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত আলোচনার প্রাধান্য থেকে বেরিয়ে আসাও তাঁর তাগিদ ছিল যাতে আসলে বাচ্চবে রাষ্ট্র কীভাবে কাজ করে সেই দিকটা মূর্ত বাচ্চব প্রক্রিয়া হিসেবে তিনি ধরতে পারেন। অর্থাৎ রাষ্ট্র সংক্রান্ত আলোচনার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি জীব (শাসন) নীতির কারিগরি প্রত্যক্ষ করে নতুন একটি মডেল খাড়া করতে পারেন।

আগামবেন ফুকোর অবদানকে স্বীকার করেন, অবশ্যই। কিন্তু তিনি দেখিয়েছেন ফুকোর অবদান স্বীকার করে নিলেও সমস্যা থেকে যায়। আইনি-প্রাতিষ্ঠানিক আর জীবশাসননীতি এই দুইভাবে রাষ্ট্রকে বিচারের মধ্যে সম্পর্কটা তাহলে কী ? রাষ্ট্র বিচারের এই দুই পদ্ধতিকে কোনোভাবেই আলাদা করা যাবে না, তাদের আসলে একই সমস্যা মোকাবিলার দিক থেকে দেখতে হবে। রাষ্ট্র আগে জীবের জীবনকে তার ধারণার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেনি, আধুনিক রাষ্ট্রের একটা পর্যায়ে এসে জীবের জীবন রাষ্ট্রের বিষয় হয়ে উঠছে। কিন্তু এটা তো হতে পারে রাষ্ট্র শুরুতেই জীবের জীবনকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিকতার যে পরিমণ্ডলকে চিন্তা করেছিল সেখানেই রয়ে গেছে মুশকিল। সেটা রয়ে গেছে সার্বভৌমত্বের ধারণার মধ্যেই। জীবের জীবন যদি শুরুতেই রাজনীতির বাইরে থেকে যায়, অথচ যে মানুষ রাজনৈতিক সে একই সঙ্গে জীবও বটে- তাহলে এই জীবন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ধারণা থেকে অদৃশ্য ছিল, কিন্তু বিযুক্ত ছিল না। আধুনিক সময়ে সেই জীবের জীবনই এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। আগামবেন সেই দিকটাই আমাদের দেখিয়েছেন।

তাঁর বিখ্যাত বই ঐড়সব ঝধপবৎ-এ তিনি বলছেন গ্রিক সময় থেকেই মানুষের জীবের জীবন বাদ দিয়ে তাকে ‘রাজনৈতিক প্রাণী’ হিসেবে রাষ্ট্র ধারণার গোড়ায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে৪ এবং নগর, রাজনীতি, ক্ষমতা ইত্যাদি সেই প্রতিস্থাপনের প্রকাশ হিসেবে আমরা দেখে আসছি সেখানেই রয়ে গেছে মুশকিল। রাজনৈতিক জীবনের দিক থেকে দেখলে মানুষের জীবের জীবন হচ্ছে ন্যাংটা অর্থাৎ প্রতিরক্ষাহীন, আগামবেনের ভাষায় নধৎব ষরভব বা শুধুই প্রাণ। জীব। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের দিক থেকে একমাত্র তার রাজনৈতিকতাই (যেমন, তার ব্যক্তি অধিকারে) রাষ্ট্র স্বীকার করে বটে কিন্তু ততটুকুই যতটুকু মানুষের রাজনৈতিক সত্তা রাষ্ট্র মেনে নেয়। জীবনের কতটুকু রাজনীতিকরণ করা গেল সেটা সংবিধানের মৌলিক মানবিক অধিকার অংশে আমরা দেখতে পারি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান বলছে, ‘আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না’ (অনুচ্ছেদ ৩২)। অর্থাৎ রাষ্ট্র অবশ্যই জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে ব্যক্তিকে বঞ্চিত করতে পারে, তবে রাষ্ট্রের দায় শুধু অতটুকুই যে সেটা আইন অনুযায়ী করতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার যাই থাকুক রাষ্ট্র ১৪২ ধারা অনুযায়ী যা খুশি আইন করতে পারে। এবং মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে এ কথাও পরিষ্কার বলা আছে যে, ‘সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত সংশোধনের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না’। ‘(২৬ (৩)। তাহলে আগামবেন যাকে ’নধৎব ষরভব’ বা ন্যাংটা বা খোলা জীবন বলছেন তার মানে দাঁড়াচ্ছে এই যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাছে বা তথাকথিত রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের কাছে নাগরিকরা ‘পবিত্র’, কিন্তু এই অর্থে পবিত্র ও যে রাষ্ট্র এই জীবনকে উৎসর্গ করে দিতে পারে না, অথচ রাষ্ট্রের কাছে এই জীব-জীবনের কোনোই রাজনৈতিক তাৎপর্য নেই।

রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ধারণার সঙ্গে আগামবেনের জীবের জীবন ও রাজনৈতিক জীবনের সম্পর্ক বিচারের প্রসঙ্গ সরাসরি জড়িত। আগামবেন বলছেন সার্বভৌম ক্ষমতার পরিমণ্ডল পবিত্র মানুষের প্রতীকী ধারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই অর্থে যে জীবের জীবনকে রাষ্ট্র বাদ দিতে পারে না বা উৎসর্গ করতেও পারছে না, কিন্তু জীবন এই নিষেধাজ্ঞার অধীনে যেখানে বাঁধা পড়ে গেল সেখানে তাকে হত্যা করা চলে। যে জীবনকে বাদ বা উৎসর্গ করা যায় না কিন্তু হত্যা করা যায়- আধুনিক রাষ্ট্র ও সার্বভৌমত্ব মানুষের জীবের জীবনকে এইভাবে নগ্ন বা খোলা জীবনে পর্যবসিত করেই সার্বভৌম হয়ে ওঠে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ধারণা একই সঙ্গে নগ্ন ও খোলা জীবনকেও তৈরি করে, যাকে রাষ্ট্রে হত্যা করতে পারে। আগামবেন বলছেন,

‘যদি তাই হয় জীবন ও ভালো জীবনের বিরোধিতার জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের যে সংজ্ঞা এরিস্টটল দিয়েছেন। তার অর্থ আমাদের এখন পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এই বিরোধিতা আসলে একই সঙ্গে দ্বিতীয়ের মধ্যে প্রথমটির অর্থ বিজড়িত করা, রাজনৈতিকভাবে গুণান্বিত জীবনের মধ্যে ন্যাংটা জীবনের প্রক্ষেপ। এরিস্টটলীয় সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি আমাদের করা বাকি সেটা শুধু ‘ভালো জীবন’ কথাটার মানে, তার ধরন বা তার পরিণতির গতি কীভাবে রাজনৈতিকতা হয়ে ওঠে সেখানে নয়, যদিও এটাই এতকাল অনুমান করে রাখা হয়েছে। আমাদের বরং প্রশ্ন করতে হবে কেন পাশ্চাত্যের রাজনীতির পরিগঠন ন্যাংটা জীবনকে বাদ রেখেই নিজেকে আগে পরিগঠন করে (এই পরিহার একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিও বটে) প্রশ্ন করতে হবে রাজনীতি ও জীবনের সম্পর্ক কী ? যদি জীবন নিজেকে এমন হাজির রাখে যে তাকে বাদ রেখেই তার অন্তর্ভুক্তি ঘটে থাকে? (আগামবেন ১৯৯৫; পৃ-৭)

এই কালের রাজনীতির দিক থেকে এই প্রশ্ন নতুনভাবে উঠছে। রাষ্ট্র ও জীবনের সম্পর্ক কী ? জীবের জীবনের জায়গা থেকে রাষ্ট্রের বিচার অতি আবশ্যিক বিপ্লবী কর্তব্য হয়ে উঠেছে।
ফরহাদ মজহার

নেতৃত্ব ও বীরত্ব

নেতৃত্ব এবং বীরত্ব এক বস্তু নয়, দুয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বীরত্বের ব্যাপারটা মূলত ব্যক্তিগত; ব্যক্তিই সেটা অর্জন করে। নিজের মতো করে। ওদিকে নেতৃত্বের ঘটনা যে কেবল ব্যক্তিগত তা নয়। মূলত তা সমষ্টিগত। নেতার ব্যক্তিগত বিভূতি থাকবে, তার মধ্যে বীরত্বও প্রত্যাশিত; কিন্তু তিনি অতিঅবশ্যি অনেকের সঙ্গে যুক্ত হতে চান। সামনে থাকেন, পেছনে না থেকে, তবে বিচ্ছিন্ন থাকেন না। নেতা হচ্ছেন জনতার পথ প্রদর্শক। তার প্রধান গুণ সাহস নয়, প্রধান গুণ বিচক্ষণতা। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, অপরিহার্য হয়ে ওঠে ঝুঁকি নেওয়া। আমাদের সংস্কৃতিতে বীরত্ব গুরুত্ব পায়, নেতৃত্বের চেয়ে বেশী। যে জন্য নেতা পাওয়া যায় না, কিন্তু বীর পাওয়া যায় যেখানে-সেখানে। নেতাকে বীর করে তুলি, গলায় মালা দিই, পারলে নতজানু হই। কিন্তু ওই যে বলছিলাম সৃষ্টিশীলতা, তার জন্য তো নেতৃত্ব দরকার। বড় ছোট সর্বত্র এমন মানুষ চাই যিনি দৃষ্টান্ত হবেন, পরামর্শ দেবেন, সন্ধান জানাবেন পথের, দিশা তুলে ধরবেন চলবার। তাকে চাই রাষ্ট্রীয় কাজে, চাই প্রতিষ্ঠানে, সংগঠনে, বিদ্যালয়ে, পাড়ায়-মহল্লায়, যে-কোনো আয়োজনে।

রাজনীতির ক্ষেত্রে গত ত্রিশ বছরে বেশ কয়েকজন নেতা এসেছেন। নেতা না হোন, তাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি ছিল নেতৃত্ব দেবার। তাদের কথা একটু পরে বলবো, যারা আগেও ছিলেন, কিন্তু এখন পরলোকগত। নতুনদের ব্যাপারটাই প্রথমে ধরা যাক। যুদ্ধের ভেতর দিয়ে কেউ কেউ এসেছিলেন, এদের প্রস্তুতিটা ছিল ষাট দশকের ছাত্র আন্দোলনে, যার প্রধান ধারাটা ছিল জাতীয়তাবাদী। আজ তাদের অধিকাংশই থেকেও নেই; কেউ কেউ আবার একেবারেই বসে পড়েছেন। যারা রয়েছেন তারা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন; বিত্তশালী হয়েছেন, কিন্তু নেতৃত্বের গৌরবটাকে ধরে রাখতে পারেননি। বাম ধারায় যারা ছিলেন তাদের কাছে প্রত্যাশাটা ছিল আরো অধিক। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। অনেকেই জাতীয়তাবাদী সেজে বড় দলে চলে গেছেন, গিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারে বীর হয়েছেন কিন্তু নেতা থাকতে পারেননি, বড় নেতা হওয়া তো দূরের ব্যাপার। উজ্জ্বলতা নেই, উদ্ভাস অনুপস্থিত। যারা বাম ধারায় টিকে রয়েছেন, তারাও মনে হয় বেশ কাবু হয়ে পড়েছেন, নেতৃত্ব দিতে পারবেন এমন আশা নিজের মধ্যেও নেই। আবার আত্মবিশ্বাসে যারা বলীয়ান তারা অনেকেই দেখি বেশ ভালো রকমের আমলাতান্ত্রিক।

বীরের জন্য আদর্শবাদ অপরিহার্য নাও হতে পারে, কিন্তু নেতার জন্য তা একেবারে প্রাথমিক শর্ত। জাতীয়তাবাদী এবং বামপন্থী উভয় স্রোতেই নেতৃত্ব যে কাহিল হয়ে পড়েছে তার বড় কারণ আদর্শবাদের ঘাটতি। তা আদর্শবাদটা গেলো কোথায়? সরলীকরণ যদি অগ্রাহ্য না হয় তবে বলা যাবে চলে গেছে শ্রেণীর উদরে। মধ্যবিত্ত শ্রেণী এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় দুর্দান্ত রকমের পুঁজিবাদী; তার বীরত্ব অন্যকিছুতেই নেই, আছে টাকা করাতে। এই আদর্শবাদের কাছে সমষ্টিগত স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাবার যে আদর্শবাদ সেটা টিকবে কেন, টিকবে কোন জোরে?

একটু পেছনের দিকে তাকালে আমরা তিনজন প্রয়াত অতিবিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেখতে পাবো, যারা একই সঙ্গে বীরও ছিলেন, নেতাও ছিলেন। এরা হলেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফজলুল হক নিজের বীরত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। অবাঙালী মুসলমানেরা তাকে ‘শেরে বাংলা’ উপাধি দিয়েছিল, সে উপাধিকে তিনি যে অগ্রহণযোগ্য মনে করেছেন তা নয়। তিনি নেতৃত্বও দিয়েছেন। মধ্যবিত্ত ও কৃষক উভয়ের জন্যই তিনি উল্লেখযোগ্য কাজ রেখে গেছেন। কিছুটা হলেও কৃষককে মুক্তি দিয়েছেন ঋণের জোয়াল বহন থেকে, উঠতি মধ্যবিত্তকে সাহায্য করেছেন শিক্ষা ও চাকরির ব্যাপারে। বাংলার রাজনীতিতে এক সময়ে তিনি তার সমসাময়িক সবাইকে ছাপিয়ে উঠেছিলেন, ব্যক্তিত্বের শক্তিতে। ছোট লাট তাকে ধমক দিতে এসে নিজেই ধমক খেয়ে গেছেন। সাহিত্যের ক্ষেত্রে যেমন ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতির ক্ষেত্রে তেমনি ছিলেন ফজলুল হক। কিন্তু তার মধ্যে বীর হবার আগ্রহটা বেশী ছিল নেতা হবার আগ্রহের তুলনায়। যে জন্য দেখা গেছে তিনি মানুষকে টেনেছেন, ভোটের ব্যাপারে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু মানুষকে সংগঠনে নিয়ে আসতে পারেননি। কৃষক প্রজা পার্টি যেমন কৃষক শ্রমিক পার্টিও তেমনি, খুবই অগোছালো, সাময়িক প্রয়োজনে গড়েছিলেন, প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবার পর সেদিকে আর ফিরেও তাকাননি। নেতৃত্ব অবশ্যই দিয়েছেন; কিন্তু কোনো স্থির লক্ষ্য নিয়ে এগোননি, দোদুল্যমানতাও ছিল তার কাজে। জনগণকে যে পথের দিশা দেবেন সেটা সম্ভব হয়নি। চল্লিশে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, কিন্তু পরে সাতচল্লিশে যখন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তখন দেখা যাচ্ছে তিনি আর নেতৃত্বে নেই। চুয়ান্নতে যুক্তফ্রন্টের তিনি প্রধান তিন নেতার একজন, কিন্তু বিজয়ের পর দেখা গেলো যুক্তফ্রন্টকে আর ধরে রাখতে পারছেন না।

ভাসানীর মধ্যেও বীরত্ব ছিল অসামান্য। তাকে অর্ধশিক্ষিত বলেন যারা তাদের হিসাবটা ঠিকই আছে, কিন্তু সেটা অঙ্কের হিসাব, সাহসে, অন্তর্দৃষ্টিতে ও প্রজ্ঞায় কোনো উচ্চশিক্ষিতই তার সঙ্গে তুলনীয় ছিল না, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও নন। তিনি ধমক দেবার ক্ষমতা রাখতেন এবং দিতেন। তবে তার ঝোঁকটা বীরত্বের দিকে নয়, ছিল নেতৃত্বদানের দিকে, যেখানে তিনি ফজলুল হক থেকে স্বতন্ত্র। মধ্যবিত্তের নয়, তার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল শ্রমজীবী মানুষ। তাদের মুক্তি চেয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষের সংগঠন গড়তে চেয়েছেন, তাদের একত্র করেছেন, তাদের দাবিগুলোকে তুলে ধরেছেন। কিন্তু নেতা হিসাবে তার সামনেও নির্দিষ্ট কোনো পথের সন্ধান ছিল কি? ছিলেন প্রবলভাবে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী, সামন্তবাদ বিরোধী, বিশ্বাস করতেন সমাজতন্ত্রে। কিন্তু কোনো স্থির লক্ষ্য ধরে যে এগিয়ে যাবেন সে কাজ তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তার কাছ থেকে তা প্রত্যাশিতও ছিল না। তাই তিনিও কোনো সংগঠন রেখে যেতে পারেননি, তার অনুসারীরা নির্দিষ্ট একটা পথ ধরে যে এগুবেন সেটা সম্ভব হয়নি।

শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একাধারে বীর ও নেতা। যেমন বীর তেমনি নেতা। বীরত্ব ছিল, ছিলেন সাহসী এবং আপোসহীন, মেরুদণ্ড ছিল শক্ত। হক ভাসানী দুই জনের তুলনাতেই তার ঝোঁক বেশী ছিল নেতৃত্বের দিকে। ফজলুল হক এবং ভাসানী যা পারেননি শেখ মুজিব তা করেছেন। তিনি একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সংগঠন গড়েছেন এবং সংগঠন রেখে গেছেন। সাংগঠনিক শক্তিতে তিনি অন্য দুই জনের তুলনায় অনেক দক্ষ ছিলেন। নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্য ছিল সামনে, সেটা হলো বাঙালীর জন্য অধিকার অর্জন। সেই লক্ষ্য ধরে এগিয়েছেন।

কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর শেখ মুজিব তার নেতৃত্বের জন্য দ্বিতীয় যে পরীক্ষাটি অপেক্ষা করছিল, সেটির মুখোমুখি হলেন তখন দেখা গেলো তিনি নেতৃত্ব দিতে পারছেন না, পিছু হটে যাচ্ছেন, তার দৃষ্টি ঘুরে গেছে বীরত্বের দিকে। অনুরাগীরা তাকে ঘিরে ফেললো, আওয়াজ দিলো মুজিববাদের সেটি ফাঁকা ছিল বলেই উচ্চকণ্ঠ ছিল। তারা তাকে নেতার জায়গা থেকে সরিয়ে এনে বীরের স্তম্ভের ওপর দাঁড় করিয়ে দিল। তারা অবশ্য পারতো না, যদি তার নিজের সম্মতি না থাকতো। আসলে এক ধরনের সিদ্ধান্ত পঁচিশে মার্চের সেই ভয়ঙ্কর রাতেই তিনি নিয়ে ফেলেছিলেন। যার দরুন যুদ্ধের নয় মাস তিনি প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে রইলেন না। যুদ্ধে তিনি অবশ্যই ছিলেন তবে সেই অবস্থানটা যে নেতার হবে সেটা সম্ভব ছিল না, অবস্থানটা ছিল বীরের। স্বাধীনতার পরে দেখা গেলো তিনি পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। সমাজতন্ত্রের কথা বলেছিলেন সেই সমাজতন্ত্র হবে শোষিত মানুষের এই অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন, কিন্তু তার জন্য ওই অঙ্গীকার রক্ষা করা সম্ভবপর ছিল না। পথ ছিল না খোলা, অঙ্গীকারের অভাব ছিল। বরঞ্চ এটাই অনিবার্য ছিল যে, তিনি এমনকি সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ থেকেও সরে যাবেন, প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না, রাষ্ট্রপতি হবেন এবং আয়োজন করবেন একদলীয় ব্যবস্থার।

আমরা তিনজনের কথা বললাম। আরো একজন ছিলেন যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি দেখা গিয়েছিল বড় ধরনের নেতৃত্বের। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। ভালো সংগঠক ছিলেন, চমৎকার বক্তৃতা করতেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ববঙ্গের প্রথম ও একমাত্র উপনির্বাচনে তিনি মুসলিম লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। সবটাই বীরত্বব্যঞ্জক। কথা ছিল নেতৃত্ব দেবারও, কিন্তু পারলেন না।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের একেবারে প্রথম দিকেই তিনি পরাজিত হয়ে গেলেন। ব্যাপারটা ব্যক্তিগত ছিল না, ছিল দলীয়। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, একুশে ফেব্রুয়ারিতে সভা শোভাযাত্রার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা সরকার জারি করেছিল তা ভঙ্গ করা হবে না। সেই সিদ্ধান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জানাবার দায়িত্ব পড়েছিল তার ওপর, যেহেতু তিনি সংগ্রাম পরিষদের সবচেয়ে বড় অংশ যে আওয়ামী লীগ তার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রসমাবেশে তিনি তা জানিয়েছেন, ছাত্ররা তাকে মানেনি। নত মুখে তিনি চলে গেছেন। বীর পারলেন না নেতা হতে। তারপরে তিনি কারাগারে বন্দী হয়েছেন। কারাগারে মওলানা ভাসানী এবং শেখ মুজিবও গেছেন বহুবার, কিন্তু প্রতিবারই তারা আগের চেয়ে উন্নত মস্তকে বের হয়ে এসেছেন। শামসুল হক পারলেন না। সাংগঠনিকভাবে নেতৃত্বে ছিলেন, কিন্তু সরে গেলেন। কারাবন্দী অবস্থাতেই তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। মুক্ত হয়েছেন, কিন্তু সুস্থ হননি। বরঞ্চ অসুখ বেড়েছে। পরে হারিয়েই গেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন একটি বইও লিখেছেন। নেতৃত্বদানের প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু তা আর বিকশিত হলো না।

ওই যে তিনজন বড় জননেতা-ফজলুল হক, ভাসানী এবং শেখ মুজিব- এদের পরিবেশে এমন আনুকূল্য ও পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না যে, তারা নেতার দায়িত্ব নেবেন। তারা অসাধারণ ছিলেন, মেধায়, অনুশীলনে, সাহসে, বীর হওয়া অস্বাভাবিক ছিল না। তাদের জন্য; নেতৃত্বের জায়গাটা ভিন্ন, কিন্তু সেখানেও তারা অনায়াসে চলে এসেছিলেন নিজ গুণে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

Monday, 6 April 2009

মন না বদলালে দিন বদলাবে না

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোনো বিষয়ে সমঝোতা বা ঐক্য হতে পারে, এ প্রায় অকল্পনীয়। কেউ কেউ বলেন, দা-কুমড়ো সম্পর্ক দল দুটোর মধ্যে। দেশের অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এ দুটো দলের যেকোনোটির ঐক্য হতে পারে, জোট হতে পারে। কিন্তু এই প্রধান দুটি দলের ঐক্যতো দূরের কথা, কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছানোও অসম্ভব। এ যেমন সত্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে, তেমনই তৃণমূল স্তরেও। বিএনপি উত্তরে গেলে আওয়ামী লীগ যাবে দক্ষিণে। যেতেই হবে। তা না হলে দল দুটোর রাজনীতি থাকে না। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এমন কিছু কিছু ব্যাপার আছে, যেখানে সব বিভেদ ভুলে দুটি দলই পরস্পর সহযোগী হয়ে যায়।

ঠিক এরকমই একটি খবর বেরিয়েছে গত শনিবার পত্রিকান্তরে। প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয় পুরোনো ঢাকায় চাঁদাবাজির প্রশ্নে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি চমৎকার সমঝোতা করে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের চাঁদাবাজদের হয়ে বিএনপির একশ্রেণীর মুখচেনা মাস্তান কাজ করে দিচ্ছে খোশমেজাজে। পাড়ামহল্লার ছোট ছোট দোকানদার-ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার কাজটা করছে তারাই। চাঁদাবাজির বেলায় তাদের কোনো বিরোধ নেই। এ ব্যাপারে পিলে চমকানো খবর আছে আরও। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র সাত দিনের মাথায় শোনা যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপি পন্থী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেন নির্বিঘেœ চাঁদা তোলার বিষয়ে একমত হওয়ার জন্য এবং রফা করে নেন এ বিষয়ে। সে অনুযায়ী লালবাগে দেদারসে চলছে চাঁদাবাজি। এলাকাবাসির বিবেকবান লোকেরা বলছেন, ছাত্র এবং যুব নেতারা চাঁদাবাজির সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

এই সংবাদে মনে পড়ে গেলো কবি আবুল হোসেনের একটি কবিতার দুটো লাইন। লাইন দু’টি হচ্ছে: ‘লুটের বেলায় নেই বিভেদ, কেতাব কিংবা পড় ুক বেদ’। বাস্তবিকপক্ষেই যে বা যারা স্বভাবগতভাবে লুটেরা তাদের অবস্থান যেখানেই হোক না কেন কাজে কোনো পার্থক্য নেই। আদর্শের কথাটা তাদের ছদ্মবেশ। সেটা হতে পরে ধর্মীয় কিংবা হতে পারে রাজনৈতিক আদর্শ; লুটপাট করতে এই শ্রেণীর লোকদের বাধে না। এদের বাইরের পোশাক ও সাইনবোর্ডের ব্যবধান থাকলেও তলে-তলে এরা মাসতুতো ভাই। পরস্পর সহযোগী। সব রসুনের গোড়া একটি। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী লালবাগের পরিস্থিতি তারই একটি ছোট উদাহরণ। খুঁজলে এবং তলিয়ে দেখলে এ ধরনের ছোটবড় আরও অনেক দৃষ্টান্ত যে বের করা যাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

একটা কথা ঠিক যে, ক্রিমিনালদের কোনো জাত নেই, নেই দল। এদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শও থাকার কথা নয়। থাকতে পারে না। লুটপাট এবং অপরাধকর্ম নির্বিঘেœ চালিয়ে যাবার প্রয়োজনে এরা যেকোনো অবস্থান ও ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। যেকোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকতে পারে। এদের কোনো দল নেই, রাজনীতি নেই। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের রাজনৈতিক নেতারা প্রায়শই এ বিষয়টি বুঝেন না অথবা বুঝতে চান না। তারা নিশ্চয়ই নিজেদের খুব বেশী বুদ্ধিমান মনে করেন, কৌশলী হিসাবে বিবেচনা করেন। তারা হয়তো ভাবেন যে, মাস্তান ক্রিমিনালদের তারা (নেতারা) ব্যবহার করছেন। কিন্তু, কার্যত দুষ্কৃতকারীরাই যে দলের প্ল্যাটফর্মটাকে ব্যবহার করে থাকে- নেতারা সেটা বুঝেও না বোঝার ভান করেন। ফলে আমাদের দেশের রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভাইরাসের মত সক্রিয় রয়েছে মাস্তান-চাঁদাবাজরা। রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে, দুর্বৃত্ত-দুষ্কৃতকারীদের ছাড়া যেন চলেই না। দুর্নীতির রাজনীতির এমন পরিণতিই স্বাভাবিক।

মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের দেশে কোনো কোনো দলের এবং নেতার অবস্থা হয়ে গেছে তামাকসেবী লোকের মত। সিগারেট বা তামাকসেবী যারা, তারা বুঝেন এবং জানেন যে, এই ধোঁয়া বিষাক্ত, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। নিকোটিন সৌন্দর্য, সুস্থতা এবং জীবনীশক্তি শুষে নেয়। তারপরও ধূমপান সহজে ছাড়তে পারে না। রক্তে মিশে থাকা নিকোটিন তাকে বারবার সিগারেটের দিকে নিয়ে যায়। সিগারেটের কটু গন্ধ তাকে প্রতি মুহূর্তে টানে প্রবলভাবে। এই সর্বনাশা টান রক্তে মিশে থাকা নিকোটিনের। একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলো, দলের কোনো কোনো নেতা-পাতি নেতা নিকোটিন সদৃশ দুষ্ট ভাইরাসের টান যেন উপেক্ষা করতে পারেন না। তারা মুখে বলেন গণতন্ত্রের কথা, মানুষের অধিকারের কথা, দেশপ্রেমের কথা, আর কাজের বেলায় উল্টো করেন। মাস্তান-চাঁদাবাজদের পোষেন, লালন করেন, পালন করেন। এদের ছাড়া যেন তাদের চলে না কিছুতেই। আর নেতাদের আশ্রয়ে থেকে তারা রাজনীতিকে কলুষিত করে যাচ্ছে দিনের পর দিন।

দু’ বছর আগে, ওয়ান ইলেভেনের মধ্যদিয়ে গোটা জাতি উপলব্ধি করতে পেরেছিলো যে, এদেশের রাজনীতি নিজেই নিজের শত্রু হয়ে গেছে। দলগুলো রুগ্ন-কলুষিত। রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি দলগুলোর অন্তরের শক্তি বিনাশ করে দিয়েছে বহুলাংশে। সেই প্রেক্ষাপটেই সর্বমহলে দাবি ওঠে রাজনৈতিক দলের সংস্কার-সংশোধনের। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যারা এই দাবি নিয়ে সরব হয়েছিলেন, তাদের সবাই যে আন্তরিক ছিলেন, তা হয়তো নয়। কেউ কেউ হয়তো বাড়াবাড়িও করেছেন। কিন্তু, একথা অনস্বীকার্য যে, সাধারণ মানুষ মনেপ্রাণে চেয়েছেন রাজনৈতিক সংস্কৃতির শুভ পরিবর্তন। কোনো রাজনৈতিক দলে মাস্তান-দুর্বৃত্তদের স্থান হবে না, এমনটিই তারা প্রত্যাশা করেছিলেন। সচেতন নাগরিকমাত্রই চাইছিলেন যে, শিক্ষাঙ্গনে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের উৎপাত থাকবে না। ছেলেমেয়েরা নির্বিঘেœ নির্ভয়ে লেখাপড়া করবে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র অঙ্গনে হানাহানি হবে না, ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাস রক্তে ভিজবে না, অস্ত্রের ঝনঝনানি থাকবে না। পাড়ায়-মহল্লায় ব্যবসা কেন্দ্রে চাঁদাবাজ-মাস্তানদের উৎপাত থাকবে না।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির সেই বাঞ্ছিত পরিবর্তনের জন্যেই দাবি উঠেছিলো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন না রাখার। গণপ্রত্যাশার আলোকে ইলেকশন কমিশনে দল নিবন্ধনের বেলায় অঙ্গ সংগঠন না রাখার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু সে কথা শোনেনি দলগুলো। তারা বি-টিম হিসেবে সহযোগী সংগঠন রেখেছেন এবং তাদের জন্য দলের ভাবমূর্তি রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কিন্তু, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ধারায় আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত খুব বেশি অগ্রসর হতে পারেনি। রাজনৈতিক দলীয় ছাত্র সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে আগের মত। ক্যাম্পাসে রক্তপাত, সংঘাত, হানাহানি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ দেশের সর্বত্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। হল দখল এবং প্রতিপক্ষ দমনের নামে চলছে নিত্যহানাহানি। গত শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে দশজন। এর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার অল্পকালের মধ্যে একাধিকবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীর প্রায় সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে। এইতো কয়েকদিন আগে বন্ধ হলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ।

ছাত্র রাজনীতি, ছাত্র সংগঠন নিয়ে আমরা ইতিপূর্বে অনেক লিখেছি। একথা কে অস্বীকার করবে যে, আমাদের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে, প্রতিটি সংকট-সন্ধিকালে ছাত্রসমাজ তারুণ্যের শক্তি নিয়ে পালন করেছেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। ছাত্রদের সংগঠিত করতে, জাতির বৃহত্তর প্রয়োজনে এই যুবজনতার শক্তিকে উদ্বুদ্ধ করতে ছাত্র সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ছাত্রলীগ পালন করেছে এক অনন্য ভূমিকা। কিন্তু সেই ছাত্রলীগ কিংবা অতীতের যেকোনো ছাত্র সংগঠনের আদর্শ এবং বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এখনকার ছাত্র রাজনীতির কোনো মিল নেই। পাকিস্তান আমলে ছাত্রলীগ ছিলো আওয়ামী লীগের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আর এখন এই সংগঠনটি সত্যি বলতে কি দলের জন্য বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রলীগের কর্মী-ক্যাডাররা মূল দলের নেতাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ক্রীড়নক হিসাবে প্রয়োজনীয় হতে পারে, কিন্তু দলের জন্য এরা অপরিহার্য নয়।

পাকিস্তান আমলে আওয়ামী লীগ যে কথা বলতে দ্বিধা করতো তা বলতো ছাত্রলীগ। প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। তখন ছাত্রলীগ অপরিহার্য হলেও এখন সে পরিস্থিতি নেই। এই ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের জন্য অপরিহার্য নয়। তবুও কেন যে আওয়ামী লীগ ছাত্র সংগঠনের ব্যাপারে নির্মোহ হতে পারছে না তা বোধগম্য নয়। ছাত্রলীগের নামে ক্যাম্পাসে রক্তপাত হবে, মাস্তানি-চাঁদাবাজি চলবে, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে- তারপরেও আওয়ামী লীগ নির্বিকার থাকবে কেন, এর কোনো ব্যাখ্যা নেই। সংঘাত-সংঘর্ষের পর কমিটি ভেঙ্গে দেয়া বা কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করে যে কোনো ফলোদয় হয় না, তাও ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়ে গেছে। কাজেই ছাত্রলীগের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের কঠোর অবস্থান নেয়ার সময় এসেছে। এই ছাত্র সংগঠনের সাথে আওয়ামী লীগ সম্পর্ক ছিন্ন করলে আদৌ কোনো ক্ষতি হবে কিনা, তা ভেবে দেখা উচিত এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া বাঞ্ছনীয়।

বলছিলাম রাজনৈতিক দলের গুণগত পরিবর্তনের কথা। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়। ক্ষমতাসীনদেরই স্থাপন করতে হয় ভাল দৃষ্টান্ত, যাতে অন্যেরা তা অনুসরণ করতে পারে। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি যতক্ষণ না বদলাবে ততক্ষণ ভাল কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে না। মন না বদলালে দিন বদলাবে না। দিন বদলাতে দলকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। দলের ভেতরে দুর্বৃত্ত, চাঁদাবাজ, মাস্তান যারা আছে তাদেরকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। পার্টির ভেতরে দুর্র্বৃত্ত-অপরাধীদের রেখে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা যাবে না। দিনবদলের শ্লোগান শ্লোগানই থেকে যাবে। জনজীবনে পরিবর্তনের কোন হাওয়া বইবে না। (সংগৃহীত)